বিশ্বজিৎ দাস:সারা পৃথিবীতে মানুষের ‘লাইফ স্টাইল’ পাল্টাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন হওয়ার ফলে মানুষ গ্রাম থেকে শহরে আসছেন, মানুষের শারীরিক পরিশ্রম কমছে।এই পরিপেক্ষিতে মানুষের শরীরে যে অঙ্গটি সবথেকে বেশি ধাক্কা খাচ্ছে সেটি হল লিভার ।শরীরের সঙ্গে ভাইরাসে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে সৈনিক শরীরকে রক্ষা করে করার চেষ্টা করে তা হল লিভার। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকলে লড়াইয়ের মূল লড়াইটা করে লিভার। তাই লিভার কমজোরি হলে তার ফল কিন্তু ভালই ভোগ করতে হবে।

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন হল লিভারের সমস্যার অন্যতম কারণ। অনেকে সকালে উঠে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকেন। এই অভ্যাস লিভারের সমস্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অনেকেই আবার দেরি করে ঘুমাতে যান। সকালে ঘুম থেকেও ওঠেন দেরিতে। তাদের ক্ষেত্রেও লিভারে সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীরবৃত্তীয় কাজের একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। সেই সময়ে ব্যাঘাত ঘটলে হজমে ব্যাঘাত ঘটে।

ফলে লিভারের সমস্যা দেখা যায়।অনেক সময় কেউ সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকক্ষণ বিছানা ছাড়তে চান না। বিছানাতেই গড়িয়ে অনেকটা সময় কাটিয়ে দেন। সকালে উঠে প্রস্রাব একটি স্বাভাবিক ক্রিয়া। সেই প্রস্রাব চেপেও অনেকে শুয়ে থাকেন। এর ফলে কিন্তু লিভারে চাপ পড়ে। ভুলেও এই কাজটি করবেন না।

পর্যাপ্ত পরিমান জল পান করতে হবে লিভার সুস্থ রাখতে। দিনে অন্তত ৭-৮ গ্লাস জল পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। আমাদের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশই জল । এই জল শরীরের টক্সিন লিভারের মাধ্যমে ছেঁকে বের করতে সাহায্য করে। শরীরে যখনই জলের অভাব হবে, তখনই লিভারে ও শরীরে টক্সিন জমতে থাকে। যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গেরও মারাত্মক ক্ষতি করে।

তাই লিভার সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত জল পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।অতিরিক্ত মদ্যপান, তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। লো ফ্যাট ফুড থেকেও থাকুন সাবধান। এসব খাবার থেকে ফ্যাট বাদ দেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু স্বাদ ধরে রাখতে যোগ করা হয় প্রচুর চিনি। এতে লিভারের সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

কিছু ওষুধ আছে যা লিভারের ক্ষতি করে। সেসব ওষুধ থেকে দূরে থাকুন। কিছু পেইনকিলার লিভারের ক্ষতি করতে পারে।ফ্যাট শরীরের জন্য উপকারী। তাই লিভার ভালো রাখতে খাবারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া চলবে না।