বিশ্বজিৎ দাস:- ত্রিধারা সম্মিলনী দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম সেরা পুজো হয় এখানে। এই বছর এবারে পুজোর স্লোগান ‘‌এই অকালে বোধন হোক, উৎসব নয়’।‌

প্রতিবছর ত্রিধারার সম্মিলনী-র পুজোয় প্রায় লাখ সাতেক দর্শকদের ভিড় হয়। এ বছর এই ভিড় যাতে কোনওমতেই না হয়, সেজন্যই সচেষ্ট ত্রিধারা–‌র উদ্যোক্তারা। কলকাতা পুরসভার বিদায়ী মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার এই পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা।

দেবাশিস কুমারের কথায়, ‘‌এবারের পুজো হবে প্রথা রক্ষার জন্য, উৎসবের কোনও ধামাকা থাকবে না।’‌ মণ্ডপে ভিড় না জমিয়ে ভার্চুয়ালি পুজো দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। ৭৪ বছরের পুজোয় এবারের প্রস্তুতি খুবই জাঁকজমকহীন।

এই বছরের শুরুতে যে বিশেষ ভাবনার পরিকল্পনা হয়ে গিয়েছিল শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যার তত্ত্বাবধানে, সে–‌সব বাতিল হয়ে গেছে করোনা–‌আবহে। পুজো হবে কী হবে না, এই অনিশ্চয়তায় কেটেছে প্রায় সাত মাস। মুখ্যমন্ত্রীর পুজো নির্দেশিকা বেরোনোর পরেই ত্রিধারার পুজোর প্রথম খুঁটি পোঁতা হয়। পুজোর বাজেট কাটছাঁট করে হয়েছে প্রায় এক চতুর্থাংশ। ত্রিধারার মিডিয়া কো–‌অর্ডিনেটর গার্গী মুখার্জির বক্তব্য, ‘‌এত অল্প সময়ে বিশেষ কোনও ভাবনার রূপায়ণ বা বিন্যাস সম্ভব নয়।

তাও শুভ দাশগুপ্ত মণ্ডপ সজ্জার জন্য একটি পরিকল্পনা করে দিয়েছেন। আমাদের প্রাচীন মনীষী ঋষি অরবিন্দ, বিবেকানন্দ, বিদ্যাসাগর, ভগিনী নিবেদিতা, মাদার টেরিজা— এঁরা সবাই যে শিব জ্ঞানে জীব সেবা করে গেছেন, এই করোনা–‌আবহে এঁদের স্মরণ করে এঁদেরই কিছু ফ্রেস্কো ও মডেল বসছে মণ্ডপে। অতিমারীর পরিস্থিতিতে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী যাঁরা প্রথম সারিতে থেকে লড়ে যাচ্ছেন, নিজেদের জীবন বিপন্ন করে যাঁরা আর্তের সেবায় নিবেদিত প্রাণ, থাকবে সেই করোনা যোদ্ধাদের কিছু মডেল।’