করোনা আবহে মানুষের পাশে থিয়েটার কর্মীরা

শেয়ার করুন

অমর্ত্য বিশ্বাস : আলোকিত মঞ্চের বাইরে বেরিয়ে মানুষের জন্য কিছু করার প্রচেষ্টায় নাট্য শিল্পীদের ভূমিকা চোখে পড়ার মত। থিয়েটার অ্যাক্টিভিস্ট নামকরণ করে বহুদিন ধরেই তারা বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও সামাজিক দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দাগ কেটেছে সাধারণের মনে। পাঁচ হাজার বছরের থিয়েটারের ইতিহাস ও বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসের ২২৪ বছরে সম্ভবত নতুন সংযোজন হতে চলেছে ‘থিয়েটারের হেঁসেল’।

থিয়েটার ফোরাম ও ‘জিজ্ঞাসা বনগাঁ’ উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী কর্মকান্ডটি এদিন মঙ্গলবার একশো দিন পার হয়। গতবছর লকডাউনে একটানা ৭৫ দিন ধরে চারটি জেলার চারটি শহরে প্রতিদিন এই কর্মকাণ্ডে কয়েকশো অভুক্ত মানুষকে একবেলার পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার বিতরণ করে। বাংলা থিয়েটারের বর্তমান সময়ের একটি প্রজন্ম মানুষের সেবায় সর্বক্ষণ নিয়োজিত রেখেছে তাদেরকে।

খাবার রান্না করে বিতরণের পাশাপাশি অক্সিজেন জোগাড় করে সাহায্য করে আসছে অসহায় মানুষকে। কখনো আবার হাসপাতালের বেড যোগাড় করতেও দেখা যাচ্ছে তাদের। ইয়াসে বিধ্বস্ত সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও কোচবিহারের পথে পথে ঘুরে মানুষের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে তারা। সংগঠনের অন্যতম সদস্য সত্যজিৎ রায় বলেন মানুষকে ভালবাসার লক্ষ্যেই তাদের এই বিশেষ উদ্যোগ। এবছর লকডাউন শুরু হতেই আবার তিনটি জেলার চারটি শহরে ‘থিয়েটারের হেঁসেল’ শুরু হয়ে যায়। এই মুহূর্তে পথের কয়েকশো অসহায় মানুষকে খাবার জোগান দিচ্ছে কোচবিহার স্বপ্ন উড়ান, হলদিবাড়ী কোলাজ, বহরমপুর রণ, বহরমপুর থিয়েটার রুটস এবং অনীক কলকাতা ও জন সংস্কৃতির সদস্যেরা।

উদ্যোগটি প্রথম চালু হয় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁতে। থিয়েটার ফোরাম এবং জিজ্ঞাসা বনগাঁর উদ্যোগে এই শহরেই তাদের প্রথম কাজ শুরু করে যা এখন গোটা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়েছে তার ব্যপ্তি । পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের অসংখ্য নাট্যদল এবং নাট্যকর্মীরা এই দলটির সঙ্গে বিভিন্ন ভাবে যুক্ত আছেন বলে জানা যায়। সমাজসেবামূলক কাজে সরাসরি পথে নেমে পড়া তারা বিশেষ দায়িত্ব বলে মনে করছেন সংগঠনের সদস্যরা।

বনগাঁ থেকে এই কর্মকান্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নাট্যকর্মী সত্যজিৎ রায়। তিনি জানান, ”আমাদের কাছে থিয়েটার মানে শুধুই পারফর্ম নয়, থিয়েটার মানে আমাদের কাছে একটি যাপন। যে যাপন মানুষকে ভালবাসতে শেখায়, প্রশ্ন করতে শেখায়, চিন্তার জগতে প্রবেশ করতে শেখায়। এই মহামারী সময়ে যে চিন্তার জগত আমাদেরকে দিক নির্দেশ দিয়েছে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

এটাই আমাদের থিয়েটার। ‘থিয়েটারের হেঁসেল’-কে চলমান প্রযোজনের নামকরণ করে আগামীতে এর উত্তরণ কিভাবে করা যায় এখন সেইদিকেই গোটা নাট্যকর্মীর দল।

শেয়ার করুন

close