ব্রেকিং নিউজ :
কোভিড আক্রান্তদের প্লাজমা দানের আহ্বান দিল্লি কংগ্রেসের ভোপালের সরকারি হাসপাতাল থেকে ৮৫০ টি রেমডেসিভির ইনজেকশন চুরি কুম্ভমেলা এখন প্রতীকি হওয়া উচিত:নরেন্দ্র মোদি অ্যাপ নিয়ে ধারণা নেই,রোগীকে মরে যেতে বললো উত্তরপ্রদেশের কোভিড সেন্টার শেষ পর্যন্ত করোনা নিধনে দেশীয় ভ্যাকসিন সংস্থাকে আর্থিক সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর ভাইরাল অডিও টেপ নিয়ে রাজনৈতিক শোরগোল শুরু কোভিডে মৃত্যু সংখ্যা লোকাতে লখনউ শ্মশান টিনের দেওয়াল তোলার অভিযোগ মে মাস থেকে ভারতে স্পুটনিক-ভি ভ্যাকসিন আমদানি শুরু হবে মোদী-শাহের বিরুদ্ধে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের
ও দাদা, ও দিদি, অযোধ্যা পাহাড় দাউ দাউ করে জ্বলছে, শুনেছেন?#saveajodhyahills

ও দাদা, ও দিদি, অযোধ্যা পাহাড় দাউ দাউ করে জ্বলছে, শুনেছেন?#saveajodhyahills

প্রীতম সাঁতরা:ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলে দাবানলের ঘটনা আমরা জেনেছি, ফেসবুক তোলপাড় করে শেয়ার করেছি। অস্ট্রেলিয়ার বনে আগুন লেগেছিল, আমরা জেনেছি, ফেসবুক তোলপাড় করে পোস্ট করেছি৷ নিউজিল্যান্ডের জঙ্গলে আগুন লেগেছিল সেটাও আমরা জেনেছি, ফেসবুক তোলপাড় করেছি। কিন্তু বাড়ির পাশের পুরুলিয়ার আগুনের শিখা আমাদের চোখে ধরা পড়ল না, কোনও কথা কানে এসে পৌঁছাল না, মুখ দিয়ে কোনও শব্দ বেরোল না, কারণ আমরা এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।

রবিবার সকালে পুরুলিয়ার এক বন্ধুর ফোন। তাকে কাজের জন্য কলকাতাতেই থাকতে হয়। তপ্ত ব্রিগেডের খবরের মধ্যেও অনন্য এক স্বর। বহু পরিচিত চেনা জায়গার জন্য চিন্তা।

-ভাই আমাদের পুরুলিয়ায় আগুন লেগেছে
-কোথায় রে?
-শুনলাম তো অযোধ্যায় আগুন লেগেছে।
-সেকি! কীকরে?

এরপর সেই বন্ধু বিশেষ কিছু আর বলতে পারল না। আগুন ছোটা ভোটের বাজারে আমিও বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম কথাটা। গুরুত্ব বুঝিনি বলেই হয়তো। খবরেও চোখে পড়েনি তেমন।

রাত সাড়ে ১০ টা নাগাদ হোয়াটসঅ্যাপে ছোটো তিনটে টেক্সট- “ভাই, অযোধ্যা জ্বলছে। একটা কপি করে দিতে পারবি?”

না বলতে পারিনি। আর পাঁচজনের মতো পুরুলিয়া, অযোধ্যার সঙ্গে আমার পরিচয়ও ঘটেছে কিঞ্চিৎ। এমন এক রাজ্য যার মাটি দেখেই বলা যায় এ হচ্ছে পুরুলিয়া। রুক্ষ্ম মাটির ওপর ঘন সবুজ গাছপালা, জায়গায় জায়গায় বেড়িয়ে রয়েছে পাথর, লালচে-ধুসর ধুলো, মাথা তুলে দাঁড়িয়ে অযোধ্যা। বহু স্মৃতির অযোধ্যা। সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছাতে হয় মন্দিরের দোরগোড়ায়। আমরা শহুরেরা যখন হাঁপিয়ে যায় পাহাড়ের ঢালে, স্থানীয় ছোটো ছেলেমেয়েরা ছুটে বেড়ায় অক্লেশে। সিঁড়ির গায়ে শ্যাওলার আবরণ, দু’পাশে ছাওয়া দিচ্ছে বন, পুরনো ভাঙা ইঁটে রাজাদের কথকথন… এই অযোধ্যা আজ জ্বলছে।

গুগলে সার্চ করে হতাশ হলাম। খুব হতাশ অবশ্য নই, কারণ রাজনীতি আগুনের তুলনায় দাবানলের আগুনের বাজারদর কম বোধহয়। কম না হলে নিশ্চয়ই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো, কী বলেন?

গুগলে সার্চ করে একটি লেখা চোখে পড়ল। সেটাই সরাসরি তুলে দিচ্ছি:

“হাউমাউ করে কাঁদছেন বরন্তির ভূষণ মাহাত। বলছেন, ‘ওদের কান্না শুনতে পাচ্ছি। বন্য শুকর তীব্র আর্তনাদে ছোটাছুটি করছে, তার ছোট ছোট আট-দশটি ছানা। ওরা এখনো মায়ের দুধ ছাড়েনি। কোথায় পালাবে ওরা? ভুটরা শেয়াল, লোমশ নেউল, মেটে খরগোশ সবাই কাঁদছে। ওদের বাঁচান দয়া করে বাবুরা। আপনাদের যে অনেক ক্ষমতা, অনেক যন্ত্রপাতি, দমকল!…শুধু বরন্তি নয়, জ্বলছে কংসাবতী-উত্তর বনবিভাগের রঘুনাথপুর রেঞ্জের গড় পঞ্চকোট, দণ্ডহিত থেকে জয়চণ্ডী পাহাড়।” ( সৌজন্যে- খড়গপুরপোস্ট.কম)


© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Bengal95 News