অমর্ত্য বিশ্বাস : করোনার প্রভাবে জেরবার গোটা বিশ্ব। তারই প্রভাব পড়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে। বহুদিন লকডাউন থাকার ফলে আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়েছে স্থানীয় ক্লাবগুলি। সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছে রাজ্য সরকার। ক্লাবগুলিকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে দিয়ে মানবিক উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রীর। জাঁকজমকপূর্ণ মণ্ডপসজ্জা থেকে বিরত থেকে সম্পূর্ণ সাবেকিয়ানায় ফিরতে চাইছেন বেশিরভাগ ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলি।

একসময়ের নজরকাড়া বনগাঁর ঐতিহ্যবাহী পুজো মতিগঞ্জ ঐক্য সম্মিলনীর একচালা মায়ের মূর্তি ও সাবেকিয়ানা মণ্ডপসজ্জা দেখে কিছুটা হলেও মন খারাপের ছাপ উঠে এসেছে দর্শনার্থীদের মুখে। করোনার ভয়াবহতা রুখতে তাদের এবারের চুয়ান্নতম পূজাবার্ষিকীর মণ্ডপসজ্জায় সাবেকিআনার পাশাপাশি থাকছে কারুকার্যের ছোঁয়া।

ইতিমধ্যেই কলকাতা উচ্চ আদালতের নির্দেশনামা মেনেই চলছে ঐক্য সম্মিলনীর মায়ের দর্শন। পঁয়ত্রিশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আয়রন গেট স্পোটিং ক্লাবের পুজোতে এ বছরের বিশেষ আকর্ষণ চারধাম মন্দির। ক্লাব কর্মকর্তারা নিজেদের উদ্যোগেই মানুষের মনকে উৎসাহিত করতেই এমন মণ্ডপসজ্জা করেছেন বলে জানা যায়।

কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশিকা আসতেই মণ্ডপের সামনেই নো এন্ট্রি’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেন তারা। দর্শনার্থীদের বাইরে থেকে সমগ্র মণ্ডপটি দেখার অনুরোধ করেন ক্লাবের সদস্যরা। অন্যদিকে ১২ পল্লী স্পোর্টিং ক্লাবের এবছরের মন্ডপ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবন দর্শন ও বর্ণপরিচয়। সোশ্যাল ডিসটেন্সিং মেনেই চলছে প্রতিমা দর্শন। তবে দর্শকদের ভেতরে ঢুকতে বারণ সেখানেও।

পাশাপাশি প্রতাপগড় স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো মণ্ডপ নেপালের বৌদ্ধ মন্দির। আর্থিক বাজেটে টান পড়ায় এবং করোনার জন্য কিছুটা হলেও প্রস্তুতির মধ্যে পড়তে হয়েছে তাদের। তাইতো পঞ্চমীতেও মন্ডপ সাজিয়ে বসে পারেননি ক্লাব কর্মকর্তারা। বনগাঁর প্রতাপগড় স্পোর্টিং ক্লাব ও জ্ঞান বিকাশিনী সংঘ মানেই মন্ডপের পাশাপাশি সুবিশাল মাঠের মেলায় মেতে ওঠেন আট থেকে আশি।

এবছর সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী মেলা বন্ধ থাকায় কিছুটা হলেও হতাশার ছাপ সাধারণের। অন্যদিকে গান্ধীপল্লী বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাব, ১৫ পল্লী যুবগোষ্ঠী, শান্তি সংঘ, হরিদাসপুর খেয়ালী সংঘ, অভিযান সংঘ, তালতলা স্পোর্টিং ক্লাব, জয়ন্তীপুর ফ্রেন্ডস ক্লাবগুলির মত বড় বাজেটের পুজোগুলি একই সাবেকিয়ানায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। সোশ্যাল ডিসটেন্সিং মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশিকা মেনেই তাদের এবারের পুজো।

সব মিলিয়ে করোনা আবহে এবারের দুর্গোৎসব নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে সম্পন্ন হলেও মানুষের মনকে কিছুটা হলেও বাধার মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।