শেষের কবিতার পক্ষ থেকে প্রথমেই সমস্ত শ্রোতাদের যারা এই কবিতা শুনেছেন বা ভবিষ্যতে শুনবেন,তাদের জন্য রইল আন্তরিক ভালোবাসা ।শেষের কবিতা আমার মানসকন্যা ।তবে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে শেষের কবিতা আমার না আমাদের।এখানে প্রত্যেক সদস্যের মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের এই কবিতার প্রতি সবাই যেভাবে মনোযোগ দেখিয়েছে বা সাড়া দিয়েছেন,তার জন্য আমরা সকলেই কৃতজ্ঞ।বরাবরই কবিতা নিয়ে আমার মাথায় নানারকম ভাবনাচিন্তা ঘুরতে থাকে,কিভাবে আরো ভালো আরো অভিনব কিছু কাজ করা যায়।

আমরা সকলেই জানি মহালয়ার দিন থেকে শুরু হয় দেবীপক্ষের সূচনা এবং পিতৃপক্ষের অবসান।এই সময় বিভিন্নরূপে নারী শক্তির আরাধনা করা হয় দেবীর মৃন্ময়ী মূর্তির সামনে অথচ রক্ত মাংসের মানবীর প্রতি আজও এই দেশ,এই সমাজ উদাসীন।জাতি ধর্ম নির্বিশেষে নারী সমাজ অবহেলিত।প্রতিদিন পেপার খুললে বা টেলিভিশন খুললে দেখতে পাই কোনো না কোনো নারী হেনস্থার ঘটনা।প্রতিদিন নতুন করে মনটা ভেঙে যায়।হৃদয় ওঠে কেঁদে।আমি কবিতা ছাড়া আর কিছুই জানিনা। কবিতা আমার যেমন প্রানের আরাম,তেমনি প্রতিবাদেরও অস্ত্র।তাই কবিতা দিয়েই নারীদের প্রতি হওয়া অত্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়েছি।
শুভ দাশগুপ্তের কবিতাটি ‘ভালো করে দেখুন’তেমনি একটি প্রতিবাদের মুখ।যেখানে প্রতিটি সম্প্রদায়ের একটি মুখ হিসেবে এক একজন নারী বলছেন তার প্রতি হওয়া অন্যায়ের কথা।এখানে বরোদা,বিহার,এবং পুরুলিয়া,এসপ্ল্যানেড সব জায়গা মিলেমিশে গিয়েছে।আজও আমাদের দেশের মেয়েরা কুৎসিত পণপ্রথার শিকার।আজও ঘরের বউকে খুন করে জনপ্রতিনিধি হওয়া যায়।বিধবা বিবাহ সহজভাবে মেনে নেয়না এই সমাজ।
এই কবিতার সাথে শুভ দাশগুপ্তর আরও দুটি কবিতার কিছু অংশ ‘এরকম হয়েই থাকে’ এবং ‘তমসো মা’ কবিতার কোলাজ করেছি কবিতার প্রতিবাদকে আরও জোরালো করার জন্য।

সর্বশেষে এই যে কান্না হাহাকার বঞ্চনার আবহ সেটা থামানো দরকার এবং তার জন্য দেশের তরুণ সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে।কবির ভাষায় এবং তথাগতর গলায় এটা সমাজের কাছে আমাদের আবেদন।
যার কথা না বললে সমগ্র লেখাটাই কবিতার ভাবনাটাই অধরা থেকে যায় তিনি বিশিষ্ট আবৃত্তিকার,তবে আমাদের খুব কাছের মানুষ,দাদা,-শ্রীযুক্ত তাপস রায়।
এই ভাবনার কথা আমি প্রথম অনেকেই জানাই।ওনার কাছে উৎসাহ পেয়ে তবেই এগোনোর সাহস করেছি।প্রতিটি পদক্ষেপে উনি অভিভাবকের মতো পাশে থেকেছেন।আমাদের অনুশীলন করিয়েছেন।কবিতার কোলাজটি উনিই করেছেন।

আমার সহশিল্পীরা-১.প্রণমি ব্যানার্জী
২.মহুয়া সিনহা বক্সী
৩.পারমিতা দাশগুপ্ত
৪.তথাগত খাঁ
৫.বিপাশা মজুমদার
প্রত্যেকে প্রচুর পরিশ্রম এবং ভালোবাসা দিয়ে এই কাজটা করেছে।আশা করি আমরা একসাথে এমন অনেক কাজ দর্শক এবং শ্রোতাদের উপহার দিতে পারবো।প্রচুর গুণী মানুষদের মতামত আমাদের কাজ করার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।আর এখানেই আমাদের স্বার্থকতা।সবার ভালোবাসায় আমাদের কাজ পূর্ণতা পেল।

কলম ধরলেন-মহুয়া বসু সেন

সহযোগিতায়-মহুয়া সিনহা বক্সী