মাটির জগন্নাথ

শেয়ার করুন

অভিমান্য পাল (নদিয়া) : বয়স বছর পাঁচ-ছয় হবে , তখন উঠোনে হামাগুড়ি দিতে দিতে হাতের কাছে পাওয়া মাটির টুকরো নিয়ে শুরু হয় খেলা । সেকি শুধু খেলা নাকি অন্য কিছু ! দু’হাতের মুঠোয় মাটি ভিজিয়ে কাদা-মাটি চটকানো খেলা । আর সেই মাটি চটকাতে চটকাতে মাটির প্রতি যে আকর্ষণ অনুভব করে এসেছেন , তিনি শান্তিপুর চড়কতলা পাড়ার (মুসলিম স্কুল মাঠ) বাসিন্দা জগন্নাথ প্রামাণিক (জন্ম : ১৯৯৩) । বাবা রাম প্রামাণিক একজন তাঁত শ্রমিক আর মালতী দেবী সর্বদা সংসারের নানা কাজেই ব্যস্ত ।

মৃৎশিল্পের যে প্রথাগত প্রশিক্ষণ থাকে তা কারোও কাছে পাননি শিল্পী জগন্নাথ । কারণ পরিবারের কেউই এই শিল্পের সাথে যুক্ত নন । তবুও তাঁর মধ্যে মৃৎশিল্পের প্রতি এক অমোঘটান লক্ষ করা যায় । তাঁর ভাস্কর্য গুলি মনোময় ও ভাববার মতো । শান্তিপুরে অনেক প্রতিমা শিল্পীর খোঁজ মিললেও মাটির তৈরি ভাস্কর্য শিল্পী নিতান্তই কম চোখে পড়ে । ভাস্কর্যের মধ্যে উঠে এসেছে নানা বার্তাবহ । নারী নির্যাতন থেকে বৃক্ষচ্ছেদন ।

এরকম কিছু সৃষ্টির মাঝে থেকেও শান্তিপুর মিউনিসিপ্যাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উর্ত্তীন হয়ে শান্তিপুর কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন । এসবের পাশাপাশি গৃহশিক্ষকতা । সেই সাথে অর্থের জন্য দুর্গাপূজা থেকে কালীপূজা , রাসউৎসবে প্রতিমা তৈরি করেন মৃৎশিল্পী জগন্নাথ প্রামাণিক । তিনি বলেন — “শখ বাঁচাতে গেলে আগে পেট বাঁচাতে হবে , তাই ভাস্কর্যের মাঝেও কিছু প্রতিমা গড়তে হয় ।”

তাঁর ভাস্কর্য নিয়ে এখনও কোনো একক প্রদর্শনী হয়ে ওঠেনি । তবে বিক্ষিপ্ত ভাবে শান্তিপুর শহরে তিনবার প্রদর্শিত হয়েছে । তাতে প্রচুর উৎসাহ পেয়েছেন । ভালোবাসাসহ প্রশংসাপূর্ণ তাঁর কাজ দেখে মুগ্ধ এলাকার সাধারণ মানুষ ।

শিল্পের উপকরণ জানতে চাওয়ায় পাই পেটুটি ( পাটমাটি ) , তুলুটি ( তুলোমাটি ) , তুষুটি ( তুষমাটি ) । এ সব নিয়েই বেঁচে আছেন শিল্পী জগন্নাথ । তাঁর দুঃখ শুধু একটাই “সুনাম অনেক পাই কিন্তু বিক্রির জন্য কাউকে পাই না ” । ভাস্কর্য করে মন ভরে ঠিকই, মন ভালো থাকে । পাশাপাশি যদি কিছু বিক্রি হতো তাহলে বাবা মাকে নিয়ে একটু নিশ্চিন্ত হতাম ” ।

শেয়ার করুন

close