আত্মবীক্ষণের আলোয় বীরেন্দ্র

শেয়ার করুন

রথীন বণিক : সমাজের শিকড় বুঝতে হলে সবার প্রথমে মানুষের মন বোঝা জরুরি। মানুষের মন কীভাবে ডাকে অনাহারে রোদ, জল, বৃষ্টিতে কান পেতে শুনতেন ভুবন বাংলার কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

কবিতায় সুডৌল স্তন আঁকতে গিয়ে চোখ দিয়ে জল এসেছে, চেয়েছেন সদ্যজাতর একটা অনুকূল ভূগোল। যেখানে সভ্যতার সব ধ্বনিগুলো আগ্রাসী নয়। গ্রাম বাংলার কোমলতা মলিনতা সকল কবিই দেখেছেন। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেখা তা হতে পুরোপুরি স্বতন্ত্র।

আয়নায় নিজের মুখ দেখলে যে রকম চমকে ওঠে মানুষ সেই রক্তাক্ত নিঃস্ব গ্রাম অ্যান্টি পোয়েট্রিতে পৃথিবী…

খাঁচার পাখি যেমন অসীম আকাশে ডানা মেলবার স্বপ্ন দেখে সমসময়ের মানুষের কুঁকড়ে থাকা সংগ্রামশূন্য কেরানি জীবন যেখানে স্বার্থপরতার গোলা বারুদ মজবুত সেই পৃথিবীতে বীরেন্দ্রর কবিতা লড়াই করে বাঁচবার কথা শোনায় ।

কৃষকের এবং শ্রমিকের স্বপ্ন পূরণ করবার মসিহাদের দ্বিচারিতা, আলফা,বিটা আরো মসৃণ করে কবিতার গা মা পাকে, অবয়বকে।
প্রখর পর্যবেক্ষণ শক্তির গুণে তিনি সারা জীবন দেখেছেন আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রাণহীন ভাঙাচোরা বিগ্রহ।

যাকে প্রগাঢ় ভক্তি দিয়ে দেবতার আসনে বসানো যায় না।বৃষ্টি হলে জল পড়ে গৃহস্থের শ্রেণিব্যবস্থায়
মানবদরদী এই কবির মানচিত্রে তাই আসে দেশভাগ, পার্টিভাগ, খাদ্য আন্দোলন, নকশালবাড়ি, জরুরি অবস্থা এবং সর্বোপরি শাসকের মুখ ও মুখোশ।

শেয়ার করুন

close