নিজস্ব সংবাদদাতা , কলকাতা : সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ করে অভিনব সাফল্য অর্জন করেছে বাংলার প্রথম মুক্তপন্থী বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘ঐক্য বাংলা’। তবে সে সবই ছিল অনলাইন কর্মসূচি । এবার কার্যতঃ আরেকধাপ এগিয়ে গত রবিবার দক্ষিণ কলকাতার রাণু ছায়া মঞ্চে একটি আলোচনাসভা আয়োজন ও লিফলেট বিলি কর্মসূচি গ্ৰহণ করল ‘ঐক্য বাংলা’।

হঠাৎ এই আলোচনাসভা তথা কর্মসূচির আয়োজন করা হল কেন ?

‘ঐক্য বাংলা’র সাধারণ সম্পাদিকা শ্রীমতী সুলগ্না দাশগুপ্ত জানান , ” ‘ঐক্য বাংলা’ বাংলার মাটিতে বাঙালি সহ বাংলার সকল ভূমিসন্তানদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য লড়ছে। কোভিড পরিস্থিতি তথা দীর্ঘ লকডাউনের কারণে আমরা সমাবেশ তথা আলোচনাসভা স্থগিত রেখেছিলাম। তবে এবার বাঙালিকে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সচেতন করার জন্য আমরা সমস্ত স্বাস্থ্য বিধি তথা সামাজিক দূরত্ব মেনে এই আলোচনাসভা তথা লিফলেট বিলি কর্মসূচি গ্ৰহণের সিদ্ধান্ত নিই।”

কি কি বিষয় উঠে এল এই আলোচনাসভায় ?

‘ঐক্য বাংলা’ সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ঐক্যযোদ্ধা সৌম্য চৌধুরী জানালেন, ” বর্তমান পরিস্থিতিতে চাকরি থেকে অর্থনীতি , শিক্ষা সবেতেই বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডোমিসাইল বি বাতিল , ভূমিপুত্র সংরক্ষণ , বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ভাবে বাংলা ভাষা পড়ানো এই বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি ন্যাশনাল গ্ৰীন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অমান্য করে রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো করা , হাতরাস কান্ডে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নীরব থাকে অথচ পৌষ মেলার মাঠে প্রমাণ ছাড়াই যে অসামাজিক কার্যকলাপ হয় বলে অভিযোগ ওঠে সেই বাংলা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ তৈরি করতে হবে বলে স্থির হয়।”

কি কি বিষয়ের ওপর লিফলেট বিতরণ করল ‘ঐক্য বাংলা’ ?

সংগঠনের তরুণ সদস্য দেবায়ন সিংহ জানান , ” রবীন্দ্র সরোবরে পরিবেশ আদালতের রায় অমান্য করে ছট পুজো পালন করার বিরুদ্ধে বাঙালিকে সচেতন করা আমাদের দায়িত্ব। পাশাপাশি যেভাবে ধর্ষণ তথা নারী নির্যাতন বৃদ্ধি পাচ্ছে গোবলয়ের মাটিতে এবং বাংলা সেখানে কতটা সুরক্ষিত সেই বিষয়গুলোর ওপর লিফলেটের বিষয় হিসেবে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও আমাদের সংগঠনের নীতি – লক্ষ্য – আদর্শ – এই লিফলেটগুলোও বিলি করা হয়। ”

আলোচনাসভায় উপস্থিত ঐক্যযোদ্ধা সোমেন বসুও কার্যতঃ শ্রীমতী সুলগ্না দাশগুপ্তের সুরে বলেন , ” ‘ঐক্য বাংলা’র একমাত্র লক্ষ্য হল বাংলার মাটিতে বাংলার ভূমিসন্তানদের অধিকার আদায় । তাই ‘ঐক্য বাংলা’ শুধু ফেসবুকে নয় , মাটিতেও কাজ করছে । ”

এদিনের আলোচনাসভায় উপস্থিত থাকতে পেরে খুশি সূর্য মিশ্র। তিনি উচ্ছ্বাসের সুরে জানান , ” ‘ঐক্য বাংলা’র সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি খুবই খুশি। যে জাতির শিক্ষক হলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর , সেই জাতিকে মুছে ফেলা এত সহজ নয়।”
কার্যতঃ একই সুর ফুটে উঠল ঐক্যযোদ্ধা সৈয়দ সারুকের কন্ঠে । তিনি বলেন , ” সব জায়গায় বাঙালি নিজের মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে।
বর্তমানে যদি কেউ বলে বাঙালির মেধা বা যোগ্যতা কমে গিয়েছে তবে বুঝতে হবে এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।”

এই আলোচনাসভা তথা কর্মসূচিতে কেমন সাড়া পেল ‘ঐক্য বাংলা’ ?

সংগঠনের নেতৃস্থানীয় সদস্য অভিজিৎ গুহ নিয়োগী বলেন , ” আজকে এই আলোচনাসভায় যারা ছিলেন তাদের মধ্যে একজন আজই ঐক্য বাংলার সঙ্গে যুক্ত হলেন।এছাড়াও লিফলেট বিলির সময় অনেকের কাছ থেকেই আমরা খুব ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। ”

অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সামাজিক মাধ্যমে জনমত গঠন থেকে শুরু করে পথে নেমে কর্মসূচি গ্ৰহণ করা – সবকিছুই অত্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী পালন করছে এই মুক্তপন্থী বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠনটি। এখন এটাই দেখার যে ভবিষ্যতে কিভাবে তারা আপামর বাঙালির কাছে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে রাখতে পারে।