নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করা কলকাতার মাঝেরহাট ফ্লাইওভারের কারণে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে নেওয়া ৩৪ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার রেলকে অনুরোধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চার লেন বিশিষ্ট নতুন ৬৫০ মিটার লম্বা ফ্লাইওভারের নাম করণ করা হয়েছে ‘জয় হিন্দ সেতু’। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী ২০২২ সালে পালিত হবে।

মমতা ব্যানার্জী বলেন, রেলের একটি নিয়ম আছে সঙ্কটের সময় মানুষকে সাহায্য এবং বিশেষ ট্রেন চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু জয় হিন্দ সেতুর ক্ষেত্রে তা ব্যতিক্রম। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেহেতু রেললাইন ফ্লাইওভারের নিচে দিয়ে গিয়েছে, তাই রাজ্য সরকারকে তাদের ৩৪ কোটি টাকা দিতে হয়েছে।

“আমি রেলওয়েকে জিজ্ঞাসা করতে চাই যে কে তাদের আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এটা ফেরত দেওয়া উচিত। এই টাকা দিয়ে স্কুল কলেজ গড়ে তোলা যেতে পারে,”।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এছাড়াও রেলওয়ের বিরুদ্ধে অনুমতি আটকে রাখার অভিযোগ করেন যার ফলে নয় মাস বিলম্ব করতে হয় জনসাধারণকে।আমি রেলের কর্মকর্তা বা ইঞ্জিনিয়ারদের দোষ দিচ্ছি না। দিল্লিতে বসে থাকা নেতাদের উপর আমি ক্ষুব্ধ,”।

নতুন সেতু নির্মাণের কাজে সহায়তা করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ৭৭ লাখ টাকা নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের (জাহাজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে) সমালোচনা করেন।

প্রসঙ্গত, নতুন ফ্লাইওভারে খরচ হয়েছে ৩১১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং খরচ পুরোপুরি বহন করেছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, আগের সেতুটির ওজন ১৫৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত বহন করতে পারত, কিন্তু নতুন সেতুটির ধারণ ক্ষমতা ছিল ৩৮৫ মেট্রিক টন।

গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত আরও তিনটি ফ্লাইওভার, অন্যটি তারাতলা থেকে যাদবপুর ফড়ি, অন্যটি পার্ক সার্কাস থেকে বালিগঞ্জ ফড়ি- কলকাতার জন্য পাইপলাইনে ছিল।

সব শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মেট্রো রেল ও ফ্লাইওভারের নেটওয়ার্ক মহানগরীকে এমনভাবে আবৃত করবে যে পরিবহন ব্যবস্থা একটি মসৃণ এবং সহজ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।