জিরোতে জিরোনো বারণ,নয়া নজির বামপন্থীদের

শেয়ার করুন

এবারের বিধানসভা বামশূন্য।গোটা রাজ্যে একটিও আসন নেই বামেদের ঝুলিতে।বহু কাটাছেঁড়া চলছে এবং চলবে।তবে করোনা আবহে সিপিআইএম এর রেড ভলান্টিয়াররা যেভাবে একের পর এক নজির গড়ছে তা এক কথায় অনবদ্য।রাজনৈতিক ফলাফল ভুলে এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যে একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত তা বারবার প্রমাণ করেছেন তারা।

সারা রাজ্য জুড়ে রেড ভলেন্টিয়ার্সরা সাধারণ মানুষের জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখে কোথাও অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছে, কোথাও খাবার, কোথাও ওষুধ, আবার কোথাও ক্যান্টিন পরিষেবা চালু রেখেছে তারা,কোথাও রোগীকে হসপিটাল পৌঁছে দেওয়া,জায়গায় জায়গায় স্যানিটাইজ করা।শুধু তাই নয় সারা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় করোনা আক্রান্ত মানুষের মৃতদেহ সৎকারের কাজটাও সবটাই তারাই করছে।

করোনা আবহে ইমেলের মাধ্যমে জনমত নিয়ে রাজ্যের ও দুটো গুরত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেল,পাশাপাশি কেন্দ্রেরও বাতিল করা হয়েছে পরীক্ষা। সেখানে দাঁড়িয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা নজির গড়লো, আলিপুরদুয়ার পশ্চিম ১ লোকাল কমিটির উদ্যোগে প্রতিদিন ১২০+ ছাত্রছাত্রী পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত নিয়মিত পরীক্ষা দিচ্ছে। হ্যাঁ বিশ্বাস হচ্ছে না হয়তো,কিন্তু এই কাজ করে চলেছে DYFI আলিপুরদুয়ার জেলার প্রাক্তন সম্পাদক, DYFI পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সদস্য জীবন সরকার।

নিজের বুথ ও পাশের বুথ মিলিয়ে মোট ১২০+ জন ছাত্র ছাত্রী প্রতিদিন করোনাবিধি মেনে পরীক্ষা দিচ্ছে। ক্লাস ফাইভ থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষা নিচ্ছে এলাকার কমরেডরা।খোলা মাঠে প্রকৃতির কোলে বসে করোনাবিধি মেনে এই পরীক্ষা ব্যবস্থা রাজ্যে নজির সৃষ্টি করলো যে কথা বলা চলে।এবার প্রশ্ন আসতে পারে এই পরীক্ষার মূল্যায়ন করবে কারা?পরীক্ষার মূল্যায়ন করবে জেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা।

প্রসঙ্গত,যেখানে SFI রাজ্য কমিটি বারবার মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব রেখেছে ছাত্র সংগঠন গুলোর সাথে কথা বলতে, কিন্তু উনি সেটা এড়িয়ে গিয়েছেন।সেই বামপন্থী যুব সংগঠনরাই এভাবে এলাকার ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ালো।যদিও হ্যাঁ হয়তো অনেক কম ছাত্রছাত্রী নিয়েই হচ্ছে কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বিষয়টা ভাবনার গভীরতা অনেকটাই বাড়াবে আশা করা যায়।

খবরটি ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছে,শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র নিজেও।

শেয়ার করুন

close