অভিমান্য পাল (নদিয়া) : মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের রাজত্বকালে ধর্মপরায়ণ ফৌজদার গাজি মহম্মদ ইয়ার খাঁ শান্তিপুরে তোপখানা মসজিদ স্থাপন করেন । পূর্বমুখী মসজিদের সামনের দিকে ত্রি-খিলান প্রবেশ পথে আরবি ও ফারসি হরফে পাশাপাশি তিনটি প্রস্থতর ফলকে খোদিত আছে- আরবি : হু আল্লাহ বাদা বিস্মিল্লা আবর্হমান আর্রহিম হু আল্লাগ কব্লা কুল্লাশাইন লা ইলাহা ইল্লালাহো মহম্মদ রসুল আল্লা কুল্লাশাইন ।

ফারসি : চেরাগ ও মসজেদ ও মেহরাব ও মিম্বর আবিবকর ও উমর ও উসমান ও হায়দার বেহাদ্দে শাহানশাহে আওরঙ্গজিব বেনা করদাহ মসজেদ ও সদকে ও হাসিব সজ্ ও পাঞ্চদা সাল বেশ আজ হাজার ।
ঔরঙ্গজেবের রাজত্বকালে (১৭০৩-০৪) ভিত্তি বেদীর ওপর স্থাপিত একটি বড়ো মিনার ও সমন্বয়ে মসজিদ তৈরি হয় । তখনকার সময়ে বাংলার সুবাদার ছিলেন ঔরঙ্গজেবের পৌত্র সুলতান আজিম উস শান । আকবরের আমলে সূত্রাগড়ে এক সেনানিবাস স্থাপন করা হয়।

ঔরঙ্গজেবের রাজত্বকালে সৈয়দ মহবুর আলম (সৈয়দ হজরত শাহ ) বাগদাদ থেকে শান্তিপুরে আসেন । তিনি স্থানীয় সৈয়দ (খোন্দকার) বংশের আদি পুরুষ এবং তিনি বাদশাহের গুরু ছিলেন । স্থানীয় সৈণ্য নিবাসে ১৩০০ পাঠান ও ৯০০ রাজপুত সৈণ্য থাকত ।

তাদের ব্যয় নির্বাহের জন্য সৈয়দ আলমকে বাদশাহ প্রচুর ভূসম্পত্তি দান করেন এবং তাঁর আদেশে সৈন্য নিবাসের ফৌজদার ইয়ার খাঁ এই মসজিদ নির্মাণ করেন । মসজিদটির কাছে মোবারক গাজি সাহেবের আস্তানার জন্য জাগটার নাম হয় পিরেরহাট যা আজও বর্তমান ।