‘ইবলিশ’ : একটি ব্যতিক্রমী সাহিত্য পত্রিকা

শেয়ার করুন

অনিমেষ সরকার,চালসা, জলপাইগুড়ি : কিছু কিছু পত্রিকা হয়ে ওঠে ব্যতিক্রমী। গতানুগতিক ধারার বাইরে তাদের কাজকর্ম। পৌঁছে দিতে চায় সমকালের চেয়ে এগিয়ে থাকা ভাবনা। তেমনই ইবলিশ উত্তরবঙ্গের ব্যতিক্রমী অন্য ধারার পত্রিকা গুলোর মধ্যে একটি।

‘ইবলিশ’ পত্রিকার পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। যদিও প্রথম সংখ্যায় পত্রিকাটির নাম ‘ইবলিশ’ ছিল না, ছিল ‘তিসা’। ‘তিসা’ উত্তরবঙ্গের একটি ঈগল শ্রেণির পাখি যে একা থাকতে পছন্দ করে, মাসের পর মাস কোনো গাছের ডালে বা ইলেকট্রিক খুঁটির ওপর নিয়মিত বসে থাকে। এমন নামকরণের পেছনে রয়েছে সম্পাদক রাহেবুলের বিষাদ-বিষন্নতার খেলা। পরবর্তীতে দ্বিতীয় সংখ্যাতেই পত্রিকাটির নাম পরিবর্তন করে হয় ‘ইবলিশ। ‘ইবলিশ’ ইসলামিক মিথের এরকমেরই একটি চরিত্র যে সর্বশক্তিমান এর বিরোধী। তাঁরা চাইছিলেন কবিতায় আলাদা কিছু করতে, সমাজটাকে উল্টেপাল্টে দেখতে, অবহেলিত-উপেক্ষিতকে নিয়ে চর্চা করতে।

ইবলিশের প্রথম সংখ্যা ২০১১ তে বেরনোর পর ২০১২ তে আরেকটি সংখ্যা প্রকাশ পায়। তৃতীয়টি প্রকাশিত হয় ২০১৪ তে। তারপর মাঝে তিন-চার বছর ব্যবধানের পর আগস্ট ২০১৯ এ বেরোয় পরবর্তী সংখ্যা। তারপর জানুয়ারি ২০২০ এ।

ইবলিশ আগাগোড়াই চেয়েছে বিকল্পধারা তথা পরীক্ষানিরীক্ষামূলক লেখালেখিকে উস্কাতে, নতুনদের কাছে তার আশ্রয়দাতা হতে। একইসঙ্গে কঠোর বাস্তবতাকেও তাঁরা কখনোই উপেক্ষা করেননি। সাব-অল্টার্ন চর্চা, প্রান্তিক বিষয়, অবহেলিত উত্তরবঙ্গ, অবহেলিত বিভিন্ন সামাজিকবর্গ তাঁরা ধরতে চেয়েছিলেন তাকেও। কেবলই সাহিত্যের নামে বিলাসিতা বা সাহিত্যকে নিয়ে ন্যাকামোকে তাঁরা পাত্তা দিতে চাননি।

প্রতিবাদে, ভালোবাসায়, কান্নায়, ব্যথায় থাকতে চেয়েছেন জ্যান্ত। প্রসঙ্গত আমন্ত্রিত লেখাপত্রের চেয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাঠানো নিত্যনতুন ধরনের লেখাগুলির প্রতিই তার পক্ষপাতিত্ব। দ্বিতীয় সংখ্যাতে কিছু ব্যতিক্রম হলেও পরবর্তীতে তা হয়নি। ইবলিশের সর্ব-অঙ্গেই সেই ছোঁয়াচ থাকে, প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে বিষয়বস্তু, লেখকসূচি সবেতেই। ইবলিশ এখনও অব্দি গতানুগতিক কোনো বিশেষ সংখ্যা করেনি, যা কয়েক বছর ধরে লিটিল ম্যাগাজিনের ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ট্রেন্ড। বা সাতমেশালি পাঁচমেশালি জগাখিচুড়ি লেখা সমাবেশও করেনি কোনো সংখ্যায়। ইবলিশ চেয়েছে সমসাময়িক বা ভবিষ্যতের কথা ভেবে সোশ্যাল মিডিয়া, প্রযুক্তিকে জুড়তে। যা তার সূচিপত্রে, বিষয়বস্তু, ভাবধারায় প্রতিফলিত হয়। তাছাড়া ২০১৯ এর দিকে ইবলিশ নিজেও ওয়েবজগতে ঘর বাঁধে ডব্লিউ ডব্লিউ ডব্লিউ.ইবলিশ.ইন ঠিকানায়।

প্রথম সংখ্যা উৎসর্গিত ছিল ‘বিদ্রোহীকে’। দ্বিতীয় সংখ্যা (২০১২) উৎসর্গিত ছিল ‘every broken-hearted people in the world’। তৃতীয় সংখ্যা (২০১৪) উৎসর্গিত ছিল নবারুণ ভট্টাচার্যকে। চতুর্থ সংখ্যা (২০১৯) উৎসর্গ—আত্মঘাতী চাষা।
তরুণ শিল্পী বিনায়ক দত্তের আঁকায়-অলংকরণে পুরো পত্রিকা সমৃদ্ধ ছিল। পঞ্চম সংখ্যা (২০২০): উৎসর্গ ‘মানচিত্র নয় মানুষকে’। ইবলিশ ষষ্ঠ সংখ্যা/আগামী সংখ্যা (২০২০) এর কাজ চলছে।

শেয়ার করুন

close