শালকিয়ার গৌরবঃ হাওড়ার প্রথম ছাপাখানা তৈরি হয়েছিল এই শহরেই

শেয়ার করুন

এখনকার শালকিয়ার সঙ্গে তখনকার শালকিয়ার মিল খুঁজে পাওয়া ভার। অথচ একটু লেখাপড়া ও খোঁজাখুঁজি করলেই মিলবে এই শহরের বর্ণময় ইতিহাসের স্বাক্ষর। কলকাতার ঠিক উল্টো দিকেই শালকিয়া। বহু কিংবদন্তির নাম এই ছোটো শহরটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও, বহু ইতিহাস এখনও অজানা। যেমন গোটা হাওড়ার মধ্যে এই শালকেতেই প্রথম তৈরি হয়েছিল ছাপাখানার ব্যবস্থা। বসানো হয়েছিল মুদ্রণযন্ত্র।

ছাপাখানার নির্মাণের সঙ্গে রেনেসাঁ বা নবজাগরণের প্রসঙ্গে টেনে আনা হয় অনেক সময়। তবে শালকিয়ার ক্ষেত্রে রেনেসাঁ বলা হয় বলে জানা নেই। যদিও এই ছাপা যন্ত্র স্থাপনের সময়ে এই এলাকায় সাহিত্যনুরাগী মানুষের সংখ্যা যে কম ছিল না তা অনুমেয়। সেই সঙ্গে নিশ্চয় সাধারণ পাঠকবর্গের চাহিদার কথাও যুক্ত হয়েছিল এই স্থাপনার পূর্বে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, শালকিয়ায় অহরহ যাতায়াত ছিল শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অমিয়রতন মুখার্জীদের মতো ব্যক্তিত্বদের। একবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এসেছিলেন হাওড়ায়। টাউন হলে রেখেছিলেন বক্তব্য। যদিও এই ঘটনার ব্যাপারে কোনও পত্রপত্রিকায় উল্লেখ পাওয়া যায় না। বিভিন্ন মানুষের স্মৃতি কথায় স্থান পেয়েছিল রবি আগমনের মুহূর্ত। সাহিত্যর পাশাপাশি শালকেতে নাটক, থিয়েটার, এমনকি নির্বাক ইংরেজি সিনেমার জন্য আলাদা হল ছিল বলেও জানা যায়। চৌরাস্তার কাছে ‘মদন’ বলে একটি হলের কথা পাওয়া যায় বইয়ের পাতায়। সেখানে দেখানো হতো নির্বাক ইংরেজি ছবি।

সিনেমা বা বায়োস্কোপ, নাটক, থিয়েটার ইত্যাদি নিয়ে করা যাবে পৃথক আলোচনা। আপাতত ছাপাখানাতেই ফিরে যাওয়া যাক। ১৮২৫ নাগাদ ছাপাখানা তৈরি হয়েছিল বলে অনুমান। বিশপ সাহেব নামের এক পাদ্রী এই কাজের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন।

এই ছাপাখানা থেকে ১৯২৬-২৭ সালে প্রকাশিত ‘চাঁদের আলো’ পত্রিকা ইতিহাসবিদদের নজর কেড়েছে। পত্রিকায় স্থানীয় কবি-লেখক বা সাহিত্যিকদের পাশাপাশি নামকরা ব্যক্তত্বরাও লিখেতে। পল্লীকবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক, সুনির্মল বসু, কালিদাস রায়েদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখিত। সুনির্মল বসুর লেখা একটি কবিতা-

প্যাঁচা বলে পেঁচী হে
কাজ নেই চেঁচিয়ে
আছি বড়ো পিছিয়ে
বর্ষার বাদলে।
পেঁচী বলে পেঁচা গো
খাঁ আদা ছ্যাঁচাগো

শেয়ার করুন

close