সৌভিক রায়, কোলকাতা : তিনি এই মর্ত্যের অমর্ত্য ! তাঁর হাত ধরেই বাংলা তথা ভারতের প্রথম অর্থনীতির নোবেলটি এসেছিলো। বিশ্ব বরেণ্য এই বঙ্গতনয়ের ঝুলিতে রয়েছে একাধিক পুরস্কার , সাথে সাথে তাঁর মুকুটে গত রবিবার জুড়েছে এক নতুন পালক। নবতম সংযোজন হলো শান্তি পুরস্কার !

করোনার দাপট রয়েছেই হয়তো আগামী দিনে আরো বড়ো আকার ধারণ করতে যাচ্ছে । কিন্তু COVID -19- এর জন্য বন্ধ হয়নি ঐতিহ্যশালী ফ্রাঙ্কফুর্ট বুকফেয়ার। অনন্য নজির গড়লেন জার্মান বুক ট্রেডিং সংস্থার আধিকারিকেরা। অনলাইনেই ডিজিটালি অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো জার্মানির এই ঐতিহ্যবাহী বই মেলা। যদিও করোনা আবহে কিভাবে বইমেলার হবে ? এই নিয়ে অনিশ্চয়তা ,দ্বন্দ্ব কম ছিল না।

তবুও শেষ পর্যন্ত অনলাইনেই বইমেলার আয়োজন করে বই মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এই বই মেলায় সুবিধা ছিলো একটাই কারণ, এই মেলায় মূলত বইয়ের কপিরাইট বিক্রি হয়, তাই বাণিজ্যিক কোনো ক্ষতি হয়নি বললেই চলে।

ঐতিহাসিক ফ্রাঙ্কফুর্ট মেলার ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়ে পড়লো বাংলার নাম । রবিবার বইমেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রতি বছরের মতোই আকর্ষনের প্রধান কেন্দ্র ছিল শান্তি পুরস্কার। 1950 সাল থেকেই বিশ্বশান্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এই পুরস্কার ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা কর্তৃপক্ষ প্রদান করে আসছে। এতদিন প্রাপকদের তালিকায় কোনো বাঙালি কেন ,

কোনো ভারতীয়েরই নাম ছিলো না কোনো দিন ! সেই অপ্রাপ্তি এইবার পূরণ হলো শেষটায় !
তৃতীয় বিশ্বের অর্থনীতি বিষয়ে গবেষণার জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া অমর্ত্য সেনই পূরণ করলেন আমাদের দীর্ঘ সাত দশকের অপূর্ণ প্রাপ্তির ঝুলি।

প্রথম ভারতীয় তথা বাঙালি হিসেবে এই বছর জুন মাসেই শান্তি পুরস্কার প্রাপক হিসাবে অমর্ত্য সেনের নাম ঘোষণা করেছিল জার্মান বুক ট্রেড সংস্থা। যদিও বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণের জন্য বইমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভবনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিলো।

18ই অক্টোবর রবিবার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হল বিখ্যাত পাউল চার্চে। যদিও উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি জার্মানির প্রধানমন্ত্রী স্টাইনমার। অমর্ত্য সেনও উপস্থিত ছিলেন না পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। ঐতিহাসিক সম্মানের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন জার্মান বুক ট্রেড সংস্থাকে।