এ বই না পড়লে জীবন সত্যি বৃথা

শেয়ার করুন

কৌস্তভ রায় (হাওড়া) : “সাহিত্য আমাদের আর কিছু না দিক বেঁচে থাকার মতো একটা মন দেয়” – তপন হাজরা। যার একটা উক্তি দিয়ে আজকের রিভিউটা লেখা শুরু করছি তিনি আমার শিক্ষক। আমার ছোটবেলায় ভট্টনগর কুলোকামিনী স্কুলের বাংলার শিক্ষক ছিলেন; তিনি সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত। একদিন বাংলার ক্লাসে উপরের কথাটি আমাদের সবাইকে বলেছিলেন, কথাটা আজীবন আমার মনে গেঁথে গেছে। আমায় বই পড়ার নেশা ধরিয়ে দিয়েছেন আমার বাবা আমার দাদু এনারা, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বই পড়া শুরু না করলে অনেক কিছুর মতোই ‘পার্থিব’ এর মত একটা উপন্যাসের স্বাদ পেতাম না।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ম্যাজিক তো জানেনই তার সাথেও যেটা জানেন সেটা হলো মুগ্ধ করে রাখার কৌশল। তার লেখা পড়ার সময় এক নিবিড় কাল্পনিক চাদর জড়িয়ে ফেলে পাঠকের মন। সারাদিন সারা কাজের ফাঁকে ফাঁকে তাঁর লেখার চরিত্ররা এসে বসে পাঠকের সামনে, তার সাথেই ট্রেনে ওঠে, টোটোয় ৫০ টাকার নোট ভাঙিয়ে নেয়। বাজার হাতে ফিরে আসে নিজেদের সংসারে। সারাদিন তাদের সাথে সাথেই কেটে যায়। ‘পার্থিব’ পড়ার সময় আমারো এরকমই হয়েছিল। সারাদিন জুড়ে সবাই এসে বসে আমার সামনে আমায় শেখায়। ‘পার্থিব’ শুধুমাত্র কিছু মানুষের জীবনের সামান্য ঘটনা নয় সব চরিত্রের জীবনের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া একটা চোরা টানের গল্প, একটা নীলচে সবুজ গ্রহ আর তার বাসিন্দাদের সেই গ্রহটা শেষ করে দেওয়ার গল্প। ২০০০ সাল শুরুর সময় এই উপন্যাসের পটভূমি কিন্তু সেটুকু ছাড়িয়ে এর বিস্তার আরো এগিয়েছে। ক্রমশ হঠাৎ কুয়াশার ভিতর থেকে বাইরে বেড়িয়ে এসেছে একের পর এক চরিত্র। আর তাদের অনেকের সাথেই নিজের বা নিজের চেনা কারো মিল খুঁজে পেয়েছি। মূল কাহিনির পাশাপাশি আরো টুকরো-টাকরা গল্প নদীর মতো বয়ে নিয়ে চলেছে এই উপন্যাস। শেষ করার পর যে অবসন্ন, ঘোর লেগে থাকা ভাব আমাকে টালমাটাল করে রেখেছে সেটাকে তাড়াতে চাইছি না, পার্থিব শুধু এক তৃপ্তি দেয় তা নয় আমাদের অনেক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, যেগুলোর মুখোমুখি হতে খুব ভয় পাই আমরা। ভয় পাই বলেই সেগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করেও উঠতে পারি না।

বইয়েরনাম – পার্থিব
লেখক – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
প্রকাশনা – আনন্দ
মূল্য – ৭৫০
পৃষ্ঠা – ৭১৪
ভাষা – বাংলা

শেয়ার করুন

close