ভাঙাপথের রাঙা ধুলায় : পঞ্চম পর্ব

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : দীর্ঘ ছয় সাত মাস ধরে মানুষের অসহায়তা যখন বাড়িয়ে তুলছে অতিমারীর সংক্রমণ, তখন ভার্চুয়াল বিনোদনের জগৎ কোথাও নিঃশ্বাস নেবার একটা জায়গা হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতে কবিতা কলিং ফেসবুক পেজ মানুষের মনের খোরাক জোগাতে যে লাইভ কবিতার আড্ডার আয়োজন করেছে, গত ১৬ই সেপ্টেম্বর ছিল তার পঞ্চম পর্ব।

” ভাঙা পথের রাঙা ধুলায়” এই শিরোনামের লাইভ অনুষ্ঠানে সেদিনের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবিতা পাক্ষিকের প্রাণপুরুষ কবি প্রভাত চৌধুরী। কথা সমন্বয়ে ছিলেন কবি ও গল্পকার প্রত্যুষা সরকার।

কবি প্রভাত চৌধুরী একাধারে কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক, সংগঠক এবং সুদক্ষ রন্ধনশিল্পী। বাংলা কবিতায় পোস্টমর্ডানিজমের অন্যতম রূপকার।

তাঁর কবিতাপাঠ দিয়েই শুরু হয় অনুষ্ঠান। পাঠ করেন কবি অভিজিৎ পালচৌধুরী। ভূমিকায় কবি মন্দিরা ঘোষ কবির জীবন ও ব্যাপ্তির কথা সংক্ষেপে তুলে ধরলেন। প্রত্যূষা সরকারের সপ্রতিভ সঞ্চালনায় এবং সর্বোপরি কবি প্রভাত চৌধুরীর অনুপম বক্তব্যে সমগ্র অনুষ্ঠানটি দর্শকশ্রোতার কাছে মনোজ্ঞ হয়ে ওঠে।

অজস্র প্রশ্নোত্তর ও অসংখ্য দর্শক শ্রোতার উপস্থিতি প্রমাণ করে কবি প্রভাত চৌধুরীর অমলিন জনপ্রিয়তা। তিনি তরুণ কবিদের স্পর্ধা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুঁজে বের করেন কবিপ্রতিভা।তার মধ্যে সঞ্চারিত করেন গতি। বললেন “পোস্টমর্ডান কোনো আন্দোলন নয়, এটা একটা সময়, একটা কালখন্ড…নো ম্যানিফেস্টো।”

নতুনদের উদ্দেশ্যে বললেন, যেখানে তাঁরা পৌঁছতে পারেননি, যা তাঁরা লিখতে পারেননি,সেই জায়গাটা ছুঁতে হবে। সেই অপূর্ণতা পূর্ণ করতে হবে। তিনি নেগেটিভ ক্রিটিসিজমকে প্রাধান্য দিলেন। তাঁর কাছে,কোনো লেখার প্রশংসা মানেই সেই লেখার সমাপ্তি টানা। কবিতা লেখার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে বানান ও ছন্দের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।

ছন্দ বলতে তিনি তথাকথিত ছন্দের কথা বলেননি।বলতে চেয়েছেন, গদ্যের মধ্যেও একটা ছন্দ থাকবে, তবেই তাকে কবিতা বলা যাবে। এধরণের অসংখ্য প্রয়োজনীয় বক্তব্য তিনি রাখলেন নতুনদের জন্য।

কবি প্রভাত চৌধুরী এমনই এক বিস্ময়পুরুষ যাঁর ভালোবাসার রুফটপে কেউই ব্রাত্য নয়। এমন একটি অনুষ্ঠান দর্শকদের উপহার দেওয়ার জন্য কবিতা কলিং এবং সহযোগী আলোপৃথিবী প্রকাশনের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

শেয়ার করুন

close