অনালোকিত অঞ্জলি : এবং সইকথার ভার্চুয়াল আড্ডা

শেয়ার করুন

নিজস্ব সংবাদদাতা : সম্প্রতি এবং সইকথার আন্তরিক আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “অনালোকিত অঞ্জলি” ফেসবুক লাইভ। এই করোনাকালে প্রযুক্তির সাহায্যে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আশির দশকের বিশিষ্ট কবি-গল্পকার অঞ্জলি দাশ, বিশিষ্ট কবি-অধ্যাপক-গবেষক বল্লরী সেন। কথা সমন্বয়ে এবং সইকথা ই-ম্যাগাজিনের সম্পাদক-কবি শীলা বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানটি শুরু করেন এবং সইকথার সম্পাদক শীলা বিশ্বাস কবি অঞ্জলি দাশের কবিতা ও সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কবিতা ছাপা হচ্ছে কিন্তু কবিতার বিশ্লেষণাত্মক রিভিউ খুব কম পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে।

এই ধরণের আলোচনার অনুষ্ঠান পাঠকের ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে এই ভাবনা থেকে এবং সইকথার এই আয়োজন বলে তিনি জানান।আলোচক বল্লরী সেন কবি অঞ্জলি দাশের কাব্য ভাষা ও বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থের কবিতার বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা করেন। তিনি বলেন কবি অঞ্জলি দাশ এমন একজন কবি যাকে পড়বার প্রধান বাধা হল তার ভাষার আপাত সারল্য যেখানে জীবনের প্রান্তবর্তী ইতিহাস লিপ্ত হয়ে আছে।

বিশেষ করে কবির প্রথম বই ‘পরীর জীবন’ প্রসঙ্গে বলেন যেখানে বেশিরভাগ কবি তার প্রথম বইটিকে গর্ভপাত বলে মনে করেন সেখানে ‘পরীর জীবন’ বইটি সম্পর্কে না বললে তার কবিতা সম্পর্কে কিছুই বলা হয় না। পরীর জীবন আসলে এক ছায়া মানবীর জীবন যে মাটির পৃথিবীতে এসে একটা একটা করে তার অঙ্গ হারালো এবং অঙ্গ – প্রত্যঙ্গ ব্যবচ্ছেদের মধ্যে দিয়ে মানবী হয়ে উঠছেন’।

তাঁর কবিতায় ক্রিয়াপদের ব্যবহার একটি গুরুত্ব পূর্ণ জায়গা জুড়ে থাকলেও ‘আমি’ সর্বনামের ব্যবহার নেই বললেই চলে। তিনি তুলে ধরেন কবির কাব্যভাষার স্বরান্তর।

কবি অঞ্জলি দাশ তাঁর কবিতা ভাবনা প্রসঙ্গে বলেন, “কবিতা তো শুধু শব্দ চর্চা নয়, চোখ বন্ধ করে পৃথিবীকে দেখা, খানিকটা পাগলামি, শোকে সুখে বেদনার আশ্রয়। নিজের চোখে দেখা বা শোনার যে অনুভূতি তাকে ছাপিয়ে কবিতা’’।

তিনি নিজে মনে করেন তিনি প্রকৃতির সঙ্গে কথা বলতে পারেন। একজন মানুষের ভেতরে যে মানুষ রয়েছেন তার সঙ্গেও তিনি কথা বলতে পারেন, এই ওঁর কবিতার উৎস। তিনি তাঁর কবিতা লেখার শুরুর দিনগুলোর কথা বলেন। তিনি মনে করেন পাঠকের ভালোবাসার জ্যোৎস্নার আলো তিনি পেয়েছেন এবং দশ জন মনোযোগী পাঠক তার জীবনের প্রাপ্তি।

দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকেও খুব সাড়া পাওয়া যায় এই অনুষ্ঠানে। তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন কবি ও আলোচক। কবি কণ্ঠে কবিতা পাঠের মাধ্যমে এক ঘন্টার এই অনুষ্ঠান শেষ হয়। এবং সইকথার সম্পাদক জানান যে ভবিষ্যতে এইরকম ভার্চুয়াল আলোচনা সভার অনুষ্ঠান করার বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।

শেয়ার করুন

close