৬৭তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, জোড়া বাংলার ছবির চার প্রাপ্তি

শেয়ার করুন

সৌভিক রায় : বাংলা বরাবর কৃষ্টি-শিল্প-সংস্কৃতিতে ভারতকে পথ দেখিয়ে এসেছে। এক সময়ে বাংলা ছবির হিন্দি পুনর্নির্মাণ হতো। কালের নিয়মে সেই গর্ব ম্লান হয়েছে অনেক দিনই। কিন্তু দিন ঘুরতে শুরুও হয়েছে বেশ কিছু কাল হলো, যাঁদের হাত ধরে বাংলা ছবির পুনর্জাগরণ হয়েছে তাঁদের মধ্যে সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গাঙ্গুলি অন্যতম।

দীর্ঘ এক দশকে সৃজিত আর জাতীয় পুরস্কার প্রায় সমার্থক হয়ে গিয়েছে। জাতিস্মর,চতুষ্কোন-এর পর গুমনামী ছবিটি জিতে নিলো সেরা বাংলা ছবি এবং সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে জোড়া জাতীয় পুরস্কার। দেশনায়ক সুভাষ চন্দ্র বসুর অন্তিম পরিণতির সত্য উদ্ঘাটন এবং সেই সংক্ৰান্ত নানান তথ্য ও তত্ত্ব, সাধারণ জনমানসে উঠে এসেছে এই ছবির দ্বারা। ফাইলে চাপা পড়ে থাকা, কমিশনে কমিশনে বিধস্ত, ইস্তেহারের দাবিকে কার্যত সাধারণের সামনে এনেছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়।

তিনি যেন;জোরাল ভাবে বিতর্ক কে বাঁচিয়ে রাখলেন এবং আরও একধাপ এগিয়ে দিলেন। প্রসঙ্গত বলতে হয় এজন্যে নানা আক্রমণের সম্মুখীন হতে হয়েছে পরিচালক এবং এই প্রাপ্তি বোধহয় আরও একবার মানুষ কে প্রশ্ন করতে বলে গেলো, “কি হলো আমাদের দেশনায়কের শেষ পরিণতি?” ছবির নাম ভূমিকায় ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অনির্বান ভট্টাচার্য ও তনুশ্রী চক্রবর্তী।

অপর ছবিটি হলো জ্যেষ্ঠপুত্র, পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলি, এই ছবির চিত্রনাট্যের জন্যে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হলেন। এই ছবির আবহ সংগীতের জন্যে পুরস্কৃত হলেন প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবিটির মূলভাবনা ঋতুপর্ণ ঘোষের, এই ছবি দুই ভাইয়ের গল্প। এক ভাই সুপারস্টার এবং অন্যজন অতিসাধারণ, পিতৃবিয়োগের পর এদের টানাপোড়েন নিয়েই ছবি বানিয়েছেন কৌশিক গাঙ্গুলি। ছবির মুখ্য দুটি চরিত্রে রয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং ঋত্বিক চক্রবর্তী, এছাড়াও গার্গী রায় চৌধুরী, সুদীপ্তা চক্রবর্তী রয়েছেন।

প্রতি বছর সাধারণত মে মাসে ঘোষণা করা হয় জাতীয় পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা কিন্তু, গত বছর অতিমারীর কারণে তা সম্ভব হয়নি। প্রায় দশ মাস পরে, গত সোমবার ৬৭-তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন

close