করোনার প্রকোপে আজ গোটা বিশ্ব দিশেহারা।দেশের মত এ রাজ্যে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।কঠিন পরিস্থিতিতে ছাত্র ছাত্রীদের বিভিন্ন পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষাদপ্তর।কলেজ বা বিশ্ব বিদ্যালয়ের পরীক্ষা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা।রাজ্যে বাতিল করা হয়েছে বাকি থাকা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা।তবে শিক্ষাক্ষেত্রে এবার দ্বিচারিতার অভিযোগ উঠলো।ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মধ্যে।WBUHS(West Bengal University of Health Science)এর ছাত্রছাত্রীদের দাবি তাদের পরীক্ষা কেন নেওয়া হচ্ছে?



যেখানে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এবং সরকারি ভাবে ২৯শে জুন রাজ্যের সব পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।এমনকি রাজ্যের লকডাউনের কারণে ১২ই আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ আছে ট্রেন পরিষেবা।যেখানে সরকার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কথা ভেবে স্কুল কলেজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন,কোনো কলেজ ক্যাম্পাসে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন সেখানে কিভাবে তাদের পরীক্ষা হয়।কোনো কিছুই না ভেবে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষএই মাসের ১৬তারিখ থেকে পরীক্ষা ঘোষণা করেছে।শুধু তাই নয় লকডাউন হয়ে যাওয়াতে স্টুডেন্টসরাও তারা ভিন রাজ্যে ফিরে গিয়েছে।তারা কিভাবে পরীক্ষা সেন্টারে পৌঁছাবে সে ব্যাপারে কোনোরকম পরিকল্পনা নেই কতৃপক্ষের।আর পরীক্ষা দিতে আসলে তারা যে আক্রান্ত হবেন না এব্যাপারেও কোনো নিশ্চয়তা নেই।



সেই সাথে তাদের পরিবারেরও ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।ইউনিভার্সিটির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরাও।তারাও জানিয়েছেন স্যারেরা পরিস্থিতি নিয়ে বিবেচনা করুক।বাতিল করা হোক বা সরকারি নিয়ম মেনেই দেওয়া হোক স্টুডেন্টসদের নম্বর।দুরদুরান্তের প্যারাম্যাডিকেল স্টুডেন্সদের জন্য নেই কোনো হোস্টেল,পিজি তে থেকেই তাদের পড়াশুনো করতে হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হওয়াতে পিজি মালিকরাও থাকতে দিতে নারাজ।এই মুহূর্তে হাজার হাজার প্যারামেডিক্যাল স্টুডেন্টসদের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত একপ্রকার।
স্টুডেন্টসরা জানিয়েছে,এই মুহূর্তে পরীক্ষা দিতে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।তা ছাড়া প্রত্যেকেই বাড়িতে সেখান থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসতে যথেষ্ট খরচ হবে।এই লকডাউনের বাজারে সেই টাকা ব্যয় করার মতো সামর্থ তাদের নেই।এছাড়াও তারা যে সংক্রমিত হবে না যে ব্যাপারে কোনো গ্যারান্টি নেই।তাদের সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে।



তারা দাবি জানিয়েছে,অন্যান্য ইউনিভার্সিটির মতো পূর্ববর্তী পরীক্ষা থেকে ৮০% এবং ২০%হোম আসাইমেন্টের ভিত্তিতে সঠিক মূল্যায়ন করানো হোক।পরিক্ষার্থীদের এই বক্তব্যের প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বক্তব্য আমি বুঝতে পারছি না সংক্রমণের ভয় নিয়ে এরা কিভাবে হাসপাতালে চাকরি করবে?মানুষ কি গণ পরিবহনে কাজের জায়গায় যাচ্ছেনা না?এই লকডাউনে এমবিবিএস পরীক্ষা হবে।পরীক্ষা হয়েছে এমডি,এমেসেরও তাহলে ওদের পরীক্ষা দিতে সমস্যা কোথায়?উপাচার্য আরো বলেন,এই বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের অধীনে নয়।রাজ্য সরকার বা স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে কোনো নির্দেশিকা আসেনি,এলে আমরা আমরাও পরীক্ষা নেব না।উপাচার্যের এই বক্তব্য পরিপেক্ষিতে স্টুডেন্টসরা জানায় তারা যখন কোনো হসপিটালে চাকরি করবে এবং ডিউটিরত অবস্থায় তাদের কিছু হলে ম্যাডিকেল ইন্সুরেন্স বা তার ক্ষতিপূরণ সরকার দেবে।আমরা পরীক্ষা দিতে গিয়ে যদি কিছু হয় তাহলে তার দায়িত্ব কে নেবে?স্বাভাবিক ভাবেই এই পরিস্থিতিতে যথেষ্ট সমস্যায় পড়বেন যদি পরীক্ষা বাতিল না হয়।