গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত চীন সীমান্ত।তারই মাঝে দুই দেশের তরফে নিহত হয়েছে বেশ কয়েকজন সেনা।স্বাভাবিক ভাবেই চীনের সাথে পরিস্থিতি খারাপ হতেই এ দেশে বামপন্থীদের চীনের ভূমিকা নিয়ে আক্রমন করা হচ্ছে।যা নতুন কিছু নয়।এর আগেও একই ভাবে বামপন্থীদের বলা হতো।গত কয়েকদিনের পরিস্থিতির নিরিখে ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মুখপাত্র জানিয়েছেন,দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা মীমাংসার জন্য আলোচনা করতে হবে।



এই প্রসঙ্গে এক ভিডিও বার্তায় একথা জানিয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি দেশের ঐক্যের জন্য নয়, দেশের স্বনির্ভরতার জন্য নয়, অন্যভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের স্বনির্ভরতা বিক্রি হয়ে যাবে। যেভাবে আমাদের দেশের শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা প্রতিবাদ না করতে পারে, যেভাবে সব ক্ষেত্র বিদেশীদের সামনে খুলে দেওয়া হচ্ছে, সমস্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে তাতে দেশ স্বনির্ভর হবে কীভাবে? এর ফলে দেশ আমেরিকা নির্ভর হবে। এটাই আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।



সূর্যকান্ত মিশ্র আরও বলেন – অতীতে চীন প্রসঙ্গে বামপন্থীদের আক্রমনের কথা নিয়ে তার বক্তব্য যারা একসময় বলতেন চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান তারা এখন ওই কথা আর বলেননা।চীনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই বলেছিলেন, এটা ভুল শ্লোগান। আমাদের চেয়ারম্যান আপনাদের চেয়ারম্যান হবেন কী করে? আমরা কখনও এসব মানিনি। আমরা বরং তখন আক্রান্ত হয়েছি। আমরা আমাদের দেশের জোট নিরপেক্ষ নীতি নিয়ে চলি। সেটাই আমাদের মূলকথা।

তিনি আরও বলেন – চীন যখন অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে অন্যায্য দাবি করেছিলো আমরা, আমাদের পার্টি প্রতিবাদ করেছিলো। আমরা বলেছিলাম চীনের দাবি অসঙ্গত। আমাদের মাথা কারো কাছে বিক্রি হয়নি। আমরা একথা বলতে পারি। আমরা বলছি আমরা শান্তি চাই। আর শান্তির রাস্তা আলোচনা। একথা আগে বলেছিলাম বলে আমাদের চীনের চর বলা হয়েছিলো। আমাদের নেতারা গ্রেপ্তার হয়েছিলো।



তিনি আরও বলেন – আমরা গতকালই এই বিষয়ে শোকপ্রস্তাব নিয়েছি। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করি। আমরা চাই ভারতের স্বার্থ সুরক্ষিত হোক। অনেক সমস্যা আলোচনা করে মেটানো গেছে। সামরিক এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যা মেটাতে হবে।শেষ দুদিনে যেভাবে চীন আর ভারতের দুই দেশের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়ে গিয়েছে।