রং ঝলমলে এ শহর কোথাও যেন আজ ফ্যাকাশে।সব কোণে পৌঁছায়নি শারদীয়ার আনন্দ।আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেনি ফুলের কুঁড়ির দল।তবে এ শহর ভালোবাসতে জানে,হাতে হাত রেখে গড়ে তোলে ভালোবাসার ব্যারিকেড।স্বার্থের এই পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ রয়ে যায়,যারা পথ দেখায়,লড়তে শেখায়,আবার কখনো স্বপ্ন দেখায়।

ঠিক তেমন ভাবেই,ভরসার হাত বাড়িয়ে দিল সমাজ সেবক সংগঠন ‘স্বজন’।”Save the Children Home” সংগঠনের প্রায় ১৮০ জন অনাথ শিশুদের শারদীয়ার রং মাখালো তাদের।১৮০জন অনাথ শিশুদের পূজা পরিক্রমার মাধ্যমে সারাদিন ব্যাপী ঠাকুর দেখালো তারা।শুধু তাই নয়, নতুন জামা দেওয়া হয়,সেই সাথে দুপুরের খাবার খাওয়ানো হয় সংগঠনের তরফে।পঞ্চমীর দিন বেহালার সরশুনা সতীন সেন উদ্যান থেকে যাত্রা শুরু করে স্বজন।কলকাতার নাম করা,সেরার তালিকায় থাকা পুজো মণ্ডপ যেমন সুরুচি সংঘ,বেহালা নতুন দল,বাদামতলা আষাঢ় সংঘ,মুদিয়ালি সহ প্রায় ১০টি মণ্ডপের ঠাকুর শিশুদের ঘুরিয়ে দেখানো হয়।
পুজোর মরশুমে হাজার ব্যস্ততার মধ্যে আমরা ভুলে যাই বা চোখ ফিরিয়ে রাখি সেই সমস্ত মানুষগুলো যারা আমাদের সমাজে আমাদের চারপাশেই বড় হচ্ছে এবং সকলের অলক্ষ্যে যুদ্ধ করে চলেছে নিজের সাথে,সমাজের সাথে। চায়ের দোকান বা ফাস্টফুডের স্টলে, নিজেদের শৈশব ভুলে অবিশ্রান্ত সংঘর্ষ করে যে সমস্ত শিশুদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ তাদের পুজো কেমন কাটে সে বিষয়ে আমরা কমবেশী উদাসীন।




স্বজন বিগত ২০১৫ সাল থেকে চেষ্টা করে চলেছে সেই সমস্ত লড়াকু, অসহায় ও অনাথ পথ শিশুদের পুজো রঙিন করে দিতে। স্বজন একই সাথে বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক কাজ সারাবছর করে থাকে,যেমন রক্তদান শিবির,বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান অসহায় মানুষদের,শীতকালীন জামা কাপড় প্রদান ফুটপাথ বাসীদের।এই বিষয়ে সংগঠনের শাশ্বত সাঁধুখা ও সৌমিত সর্দার বলেন,আগামী দিনে তাঁরা এই সমস্ত বাচ্চাদের চিকিৎসাও প্রদান করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here