জাঁকজমক, জৌলুস ক্ষয়িষ্ণু, ছিমছাম। এমনকি ঢাকের আওয়াজও পাওয়া যাচ্ছেনা। কিছু দর্শনার্থীরা আসছেন, মাকে দেখে চলে যাচ্ছেন। আমরা বেঙ্গল95 ঘুরে এলাম রাণাঘাটের ঘোষবাড়ি থেকে। পৌঁছে বেশ হতাশই হয়েছিলাম। ফাঁকা নিঃশব্দ ঠাকুরদালান, কেমন আলগোছে পুজো হচ্ছে মনে হয়। এই পুজো যে পাঁচশো বছরে পদার্পণ করলো কে বলবে! তারপর এলেন রঙ্গিত বাবু। ঘোষ পরিবারের ঊনত্রিশতম পুরুষ। তিনি বললেন কালের টানে ভাটা পড়েছে ব্যাবস্থায়। পরিবারের সকলে একসঙ্গে হইহুল্লোড় করে আনন্দ করাও হয়না সেভাবে। অনেকেই আছেন যারা পরিবারের এই পুজো নিয়ে বিচলিত হয়না একেবারেই।

কেউ আবার একদিনের জন্য এসে ফিরে যান। অনেকেই বিষয়সম্পত্তি বিক্রি করে পাড়ি দিয়েছেন অন্য কোথাও। তিনি পারেননি। রঙ্গিতবাবু পেশায় অভিনেতা। বাংলা থিয়েটার-চলচ্চিত্রের সংসারে পরিচিত মুখ। তাঁর ওপরে বর্তমানে পুজোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়ভার। তাঁর পরবর্তীকালে পুজো রইবে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তবে এই পুজোই কিন্তু উঠবে রঙচঙে। এলাকাবাসীর অগাধ ভক্তি মায়ের ওপর। ওঁরা মনে করেন মা সবার মনষ্কামনা পূরণ করে।



মায়ের স্বপ্নাদেশেই বন্ধ হয়েছিল বলির প্রথা। অনেকের পুজো শুধুমাত্র শর্মাবাড়ির ৭৫৭বছরের পুজো এবং ঘোষেদের পুজোই। স্থানীয়দের কাছে এই দুই পুজো ছাড়া নাকি তাদের দুর্গোৎসব অপরিপূর্ণ থেকে যায়। কাঁদাখেলা হয় নবমীতে আর ঘোষবাড়ির সিঁদুরখেলাকে ঘিরে উন্মাদনা দেখা যায়। পাঁচশো বছরে পদার্পণ উদযাপন করতে দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ করেছেন, ছোটদের জন্য খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।


রঙ্গিতবাবু,শুভব্রত নন্দীরা একটি অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন যা বোধহয় কোলকাতা বা শহরতলিতে আগে দেখা যায়নি। তাঁরা বেশ কিছু শর্টফিল্ম নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন। রঙ্গিতবাবু অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে এই উদ্দোগ। তিনি এবং এলাকাবাসী বেশ উত্তেজিত। পুজোর কদিনে কোলকাতা ও কাজকর্ম ফেলে রেখে ছুটে আসতে রসদ তো এসব খুচরো আনন্দই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here