পিনাকী চক্রবর্তী: ত্রিপুরার‌ সীমান্তবর্তী সাবরুম এলাকায় ফেনী নদীর জল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ। ভারত সফর শেষে বুধবার ঢাকার গণভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এছাড়াও এই সম্মেলনে তিনি জানান তাঁর এবারের ভারত সফরে ত্রিপুরায় এলপিজি সিলিন্ডার রফতানির বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪ তম অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এরপর ভারত সফরেও এসেছিলেন তিনি।



তাঁর এই ভারত সফরের বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন কেউ পানীয় জল চাইলে তা না দিলে কেমন দেখায়! খাগড়াছড়িতে উৎপত্তি হওয়া ফেনী নদী ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী একটি নদী। তাই এই নদীর জলের উপর দুই দেশেরই অধিকার রয়েছে। আর ত্রিপুরার সাবরুম এলাকার মানুষ মাটি থেকে পানীয় জল তোলে। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। তাই ভারত সরকারের সঙ্গে ত্রিপুরার এই অঞ্চলে পানীয় জল দেওয়ার চুক্তি হয়েছে। আর ত্রিপুরাকে যে জল দেওয়া হবে তা অতি নগন্য বলেও এই সম্মেলনে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। এই বিষয়ে তিনি বলেন,‌” কেউ যদি খাওয়ার জল চায়, আমরা তা না দিই এটা কেমন দেখায়! আমাদেরও সীমান্তবর্তী নদী রয়েছে। সেটাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। ”

এই বিষয়ে ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে হাসিনা বলেছেন” ত্রিপুরা কিছু চাইলে আমাদের তা দিতে হবে।”



এছাড়াও এদিন হাসিনা জানিয়েছেন ভারতের সঙ্গে এলপিজি সিলিন্ডার রফতানির বিষয়েও চুক্তি হয়েছে তাঁর। এই বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন বাংলাদেশ যে গ্যাস আমদানি করে এবং সরবরাহ করে তার কিছু অংশ ত্রিপুরাকে রফতানি করা হবে।

যদিও ভারত সরকার বাংলাদেশকে তিস্তার জল দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর‌ পরেও বাংলাদেশের ত্রিপুরাকে ফেনী নদীর জল এবং এলপিজি দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি করায় চরম বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে শেখ হাসিনার‌ সরকারকে। এ বিষয়ে হাসিনার সরকারের সব থেকে বেশি সমালোচনা করেছে বিরোধী দল বিএনপি। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই খুশি ত্রিপুরার সাবরুম এলাকার মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here