জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালকের সিনেমা হল পেলো না কলকাতায়।এর চেয়ে লজ্জা আর কি হতে পারে?প্রতিবাদ,না সে পথে হাঁটবো কিনা এমত পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সেটা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ব্যাপার আর তাছাড়া এখন সময়ও নয়। লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে আসছে আমাদের।ক্রমশ গাঢ় অন্ধকার কেমন যেন আমাদের গ্রাস করে চলেছে।চারপাশের পরিবেশ কেউ বা কারা অবশ্যই প্রভাবশালীরা আমাদের সবকিছু নির্ধারণ করে দিচ্ছে।যাক সেসব কথা।আজ এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বলতে ইচ্ছে করছে অনেক কিছু কিন্তু বিশ্বাস করুন আজ নয় অন্য কোনো দিন অন্য কোথাও নিশ্চয় বলবো।তবে যে কথা নিয়ে আমি আজ বলতে এসেছিলাম।আপনারা যারা সিনেমা দেখেন বা ভালোবাসেন বা মোটামোটি খোঁজ খবর রাখেন তারা হয়তো শুনে থাকবেন প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের নাম।হ্যাঁ উনি জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত একজন পরিচালক।ওনার দ্বিতীয় ফিচার ফ্লিম ‘রাজলক্ষী ও শ্রীকান্ত’ মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল।এমত পরিস্থিতিতে কলকাতার বুকে হলই পেলেন না পরিচালক।কেন পেলেন না,ইত্যাদি প্রশ্ন উঠবে স্বাভাবিক।কে বা কারা পিছন থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে আমাদের জানা নেই বা কারোর আছে।তবে তারা অবশই প্রভাবশালী বটে।শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি আধুনিক প্রয়াস।ট্রেলার বা গান ইউটিউবে,ফেসবুকে মুক্তির পর ব্যাপক সাড়া মিলেছে।অভিনেতা ,অভিনেত্রীদের মধ্যে আছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী,অপরাজিতা ঘোষ দাস,জ্যোতিকা জ্যোতি,সায়ন,রাহুল প্রমুখ।হ্যাঁ অবশ্যই সিনেমাটি ‘স্বাধীন’কাজ।বড়ো ব্যানার নেই।তাই কি কলকাতায় মুক্তি পেতে দেওয়া হলো না?প্রশ্ন উঠছে।সিনেমাটি ২০ই সেপ্টেম্বর মুক্তি পাচ্ছে,কিন্তু ১৮তারিখ অবধি দর্শকরা জানতে পারলো না কলকতার কোন কোন হলে মুক্তি পাচ্ছে।এদিন সন্ধ্যায় পরিচালক নিজে এক তথ্য জানিয়েছেন,যা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান।গোটা ভারত বর্ষে হাতে গুনে ৬টি হলে মুক্তি পাচ্ছে।পাঁচটি পশ্চিমবঙ্গে(উদয়নপুর,বারুইপুর,সোদপুর,কোচবিহার,শিলিগুড়ি)আর একটি ত্রিপুরাতে।
ফলে খানিকটা হলেও হতাশ ছবির কলাকুশলী থেকে অভিনেতা অভিনেত্রীরা।গতকাল সন্ধ্যায় এ কথা পরিচালক নিজে ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করে জানিয়েছেন গোটা বিষয়টি।এরপরেই নাগরিকদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রশ্ন তোলেন কেন বা কাদের অঙ্গুলী হেলনে হল পেলনা সিনেমাটি।সমাধান হিসেবে অনেকেই জানিয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখানোর কথা।প্রসঙ্গত,২০১৪সালে প্রদীপ্ত বাবুর প্রথম ফিচার ফিল্ম বাকিটা ব্যক্তিগত সিনেমা জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল।স্বাভাবিক ভাবে এমন এক পরিচালকের ছবি খোদ কলকাতার বুকে হল না পাওয়াতে ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকেই।সেই সাথে চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন কেউ কেউ।
সব শেষে আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় দর্শক হিসেবে কি আমাদের কোনো দায়িত্ব বা দায়বদ্ধতা নেই?আমরা কি দাবি তুলতে পারি না হলে ফিরুক শ্রীকান্ত ও রাজলক্ষী।হ্যাঁ,অবশ্যই সিনেমাটি ভালো না খারাপ বিচার আমরা মানে দর্শকরাই করবো।কিন্তু কোথাও কি আমাদের মনে হয় না সেই কাজ টা আমাদের থেকে কেড়ে নেওয়া হলো।আমরা অন্যান্য ছবি যেমন হলে ভিড় করে দেখতে যাই ঠিক তেমন যদি হতো!আসলে আজ প্রদীপ্ত বাবুর সাথে হয়েছে,কাল হয়তো নতুন কোনো পরিচালকের সাথে একই জিনিস ঘটবে।তাই আজ যদি আমরা সমবেত না হই,আওয়াজ না তুলি কাল হয়তো অন্য কোনো ছবির এভাবেই কণ্ঠরোধ হবে।আর সেটা চলতেই থাকবে……

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here