শুভেন্দুর মন্তব্যে ধুন্ধুমার বিধানসভায়

58772372_2339984409610529_1730469562240991232_n.jpg

পিনাকী চক্রবর্তী: নজিরবিহীন ঘটনা ঘটলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়‌‌। হাতহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন কংগ্রেস এবং তৃণমূলের বিধায়করা। গন্ডগোলের জেরে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিকে তেড়ে গেলেন এক কংগ্রেস বিধায়ক। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওয়েলে নামতে হলো মুখ্যমন্ত্রীকে।


ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে মুর্শিদাবাদের‌ বড়ঞার কংগ্রেস বিধায়ক প্রতিমা রজকের একটি দাবি কে কেন্দ্র করে। এদিন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তিনি জানান তার কাছে খবর আছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমেল ( এনবিএসটিসি) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হচ্ছে । মোটা টাকার বিনিময়ে এনবিএসটিসিতে কর্মী নিয়োগ হচ্ছে। এক এক জন চাকরী প্রার্থীর থেকে ৩-৪ লক্ষ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

কংগ্রেস বিধায়কের এই অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিমা রজকের উদ্দেশ্যে সরাসরি তিনি বলেন এই অভিযোগের‌ সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে বিধানসভায়‌ ক্ষমা চাইতে হবে তাঁকে। এর পাল্টা প্রতিমা দেবী বলেন,‌ “বিধানসভায় ক্ষমা চাইব কি না সেটা মন্ত্রী নয়, ঠিক করবেন স্পিকার।” এই মন্তব্যের জেরে পরিবহনমন্ত্রী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “মুর্শিদাবাদ থেকে কংগ্রেসের আর কেউ জিততে পারবে না। এর পর মুর্শিদাবাদ ফাঁকা হয়ে যাবে।”


শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পর মুর্শিদাবাদেরই ভরতপুরের কংগ্রেস বিধায়ক কমলেশ চট্টোপাধ্যায় চিৎকার করতে করতে শুভেন্দুর দিকে এগিয়ে যান। কমলেশবাবুর সঙ্গে যোগ দেন বাম ও কংগ্রেসের অন্য বিধায়করাও। এরপর তৃণমূল বিধায়করাও আসরে নামেন। শুভেন্দুর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন তাঁরা।কার্যত হাতাহাতি শুরু হয়ে যায় বাম-কংগ্রেস তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যে।


এমতাবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আসরে নামেন মুখ্যমন্ত্রী। ওয়েলে নেমে ‌আসেন তিনি। দু’পক্ষের বিধায়কদের ধমক দিতে দেখা যায় তাঁকে। নিজের দলের বিধায়কদের ভর্ৎসনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় । দু’ পক্ষকেই সতর্ক করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দুর ‘ফাঁকা হয়ে যাবে’ মন্তব্যটিও রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top