Logo
News Categories
HomeEntertainmentমার্কশিট যাতে লাল দাগ নেই

মার্কশিট যাতে লাল দাগ নেই

মার্কশিট যাতে লাল দাগ নেই

উৎসব চন্দ্র:রোববারের দিন,সারা সপ্তাহের কাজ সেরে দুপুরে খেতে বসবেন।খাবার তো গুরুপাক,কিন্তু সিনেমাতে যদি একটু শীর্ষেন্দু মুখুজ্জ্যের ফ্লেভার থাকে? তবে দুপুরটা কিন্ত মন্দ কাটে না।ফেলুনাথের মার্কশিট। সিধু টেবিলের সামনে জয় বাবা ফেলুনাথের সৌমিত্রের ছবি লাগিয়ে রাখে,আর এই ভেবে কষ্ট পায় যে তার নামটা ফেলুনাথ নয়,কিন্তু পড়াশোনার বেলা সে তাই। এতে অবশ্য তার বাবা বেজায় খুশি,কারণ তাহলে সিধু আর তার ভাইকে পারিবারিক হোসিয়ারির ব্যবসায় বসিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে। সঙ্গে পারিবারিকভাবে ফেল করে যাওয়ার সংস্কৃতি ও অক্ষুন্ন থেকে যাবে। কিন্তু বিগড়ে বসে সিধু,সে নিজের মতো কিছু করতে চায়। এদিকে আবার বাবা তার জন্য মেয়েও ঠিক করে রেখেছে,একেবারে বিয়ে দিয়ে ব্যবসায় বসিয়ে ছেলেকে নিজের কাছে রাখা যাবে। তাই ছেলে পালায়,পালিয়ে গিয়ে ওঠে এক গ্রামে এবং সেই গ্রামের এক লোকের পাওয়া স্বপ্নাদেশ থেকে হঠাৎই সে হয়ে ওঠে এক সাধুবাবা! তারপর শুরু হয় “মনের ভেতরে রাক্ষস” শেষের করার কাজ!প্রত্যেকের অভিনয় যথাযথ। ‘সিধু’র চরিত্রে সৌরভ দাসের অভিনয় বেশ জমজমাট। তবে বিশেষ করে বলতে হয় ‘মিষ্টি’-র চরিত্রে অভিনয় করা তন্বী লাহা রায়ের কথা। বেশ সাবলীল ও স্বচ্ছন্দ। বেশ কিছু জায়গায় শব্দের খেলা গোটা ব্যাপারটা আরো জমিয়ে তোলে। সিনেমাটোগ্র্যাফি বেশ ভালো। সিনেমায় থাকা গান মাঝারিমানের হলেও, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সুন্দর। গল্পটিকে বেশ সুন্দর ভাবে বলার জন্য ডিরেকশন ও এডিটিং এর কাজ অস্বীকার করা যায় না।বিরিয়ানি-কাবাবের মতো গুরুপাক নয়,আবার ডাল-ভাতের মতো বিশাল পুষ্টিকর ও হয়তো নয়,কিন্তু আমরা বাঙালিরা তো স্রেফ ওতেই থেমে থাকি না। ফুচকা-ঝালমুড়ি-আলুকাবলি-চুরমুর এরকম হরেক রকমের খাবার আমাদের জীবনের অঙ্গ। এ সিনেমাও তাই। হালকা মেজাজে দেখার এক ফিল গুড সিনেমা ফেলুনাথের মার্কশিট। কাজেই, অত টক-ঝাল-নুন-মিষ্টি এসব বিশ্লেষণ না করে খেয়ে দেখতেই পারেন,মন্দ লাগবে না। আখেরে, “ভিতরের রাক্ষসটা”-কে কিছুক্ষনের জন্য হলেও দেখবেন,মরে থাকবে,আর সেটা খারাপ লাগবে না।

No Comments

Leave A Comment

error: Content is protected !!