সংবাদপ্রেরক-খাসখবর মিডিয়া

মধুমিতা জানা : লোকসভা নির্বাচন ২০১৯শেষ।সমীক্ষাও শেষ।অপেক্ষা ফলাফলের।রাত পোহালেই শুরু হবে গননা।এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে যেটা লক্ষনীয় বিষয় সেটা হল দেশের সব রাজ্যেই আঞ্চলিক দলগুলির বাড়বাড়ন্ত।রাজ্যগুলির মোট আসনের অর্ধেক যদি আঞ্চলিক দল গুলি পায় তবে এনডিএ ও ইউপিএ পাবে বাকি অর্ধেক।অথচ সমীক্ষার দাবী এনডিএ-ই সরকার গড়বে।এটাই যদি ঘটে তবে বলতে হবে ভোটার শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত যাই হোক না কেন তারা ভোটে বেশ শিক্ষিত।এই বিষয়টি আর কেউ না বুঝলেও আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুঝেছেন তাই ২৩মে র আগে কোনোরূপ আলাপ আলোচনা থেকে বিরত থাকছেন।


একহাজারেরও বেশি জরিপ সংস্থার দাবি বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ প্রায় তিনশোর কাছাকাছি আসন পাবে অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর দল একশোর কাছাকাছি।অবাক করা বিষয় হল বিজেপি ব্যাতিত অন্যান্য দল তো অবশ্যই সেই সঙ্গে বিজেপির বেশ কিছু সামনের সারির নেতাও এই সমীক্ষাকে বিশ্বাস করতে নারাজ।কিন্তু কেন?পাঠক থেকে ভোটার অনেকেই অবাক হওয়ার মত ব্যাপার।এই বিষয়ে মহাগটবন্ধনের সকল নেতার গলায় একসুর।শশী থারুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেজরিওয়াল সকলের এক রা।অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য আরো এক ধাপ এগিয়ে।তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এটি বিজেপির আগাম টোপ।যাতে আঞ্চলিক দলগুলি প্রভাবিত হয়।তাঁর এই অনুমান যদি সত্যি হয় তবে দেখার বিষয় সেই পথে কারা কোন পথে হাঁটতে পারেন।
পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন দল তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠনে দিল্লিতে মুখ্য ভূমিকা নিতে পারে । তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির ১৯৯৪ সালে গান্ধীর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের থেকে বেরিয়ে বর্তমানে ৩৪টি আসন দখল নিয়ে আছে । শক্তিশালী আঞ্চলিক দল হিসাবে ১৬ তম লোকসভায় ৩৪আসন নিয়ে টিএমসি চতুর্থ বৃহত্তম সংসদীয় পার্টি ছিল। জরিপ বলছে, ২৪-২৯টির মধ্যে কমে আসতে পারে এবার। কংগ্রেসের পর মোদীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সংসদীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকা এবার নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি ।
উড়িষ্যার বিজু জনতা দল ১৮জন সাংসদ নিয়ে মোদী সরকারের প্রথম মেয়াদের সঙ্গী ছিল।সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী সেই আসন কমে ১৫টি হতে পারে। বহুজন সমাজ পার্টি সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে সরকার গঠনে। সমীক্ষা বলছে উত্তরপ্রদেশের ৮০টি সংসদীয় আসনের ২0 থেকে ৪৫ টি আসন বিএসপি-সমাজবাদী জোট পেতে পারে।
সমাজবাদী বা সমাজতান্ত্রিক পার্টির নেতা, আখিলেশ যাদব গত লোকসভা ভোটে বা মাত্র সাতটি আসন নিয়ে ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে ছিলেন। এবার মায়াবতীকে নিয়ে তার জোট উত্তরপ্রদেশ জুড়ে নিম্ন বর্ণের ভোটারদের বৃহত্তম ব্লক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে ।


কংগ্রেস ও চন্দ্রবাবু নাইডু জগন মোহন রেড্ডির সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে।২৩শে মে নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলীয় নেতাদের একটি বৈঠকে যোগ দিতে কংগ্রেস জগমহনকে রাজি করার চেষ্টা করেছে। সমীক্ষা বলছে নির্বাচনে রেড্ডির দল ২0 টি আসন পেতে পারে ২৫টির আসনের মধ্যে ।
তামিলনাড়ুতে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজহামের স্ট্যালিন প্রকাশ্যে প্রধান প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাহুল গান্ধীকে সমর্থন করেছেন। সমীক্ষা বলছে, কংগ্রেসের সাথে স্ট্যালিনের জোট তামিলনাড়ুর ৩৯ টি আসনের মধ্যে ২৭ টিরও বেশি পেতে পারে।
তেলেঙ্গানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেসিআর সরকার গঠনের জন্য তিনি একটি অ-বিজেপি, অ-কংগ্রেস ফ্রন্ট চেয়েছিলেন। ৬৫ বছর বয়সী এই নেতা তামিলনাড়ুর স্ট্যালিনের সাথে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে তিনি বলেন, রাওয়ের দল তেলঙ্গানা জাতীয় কমিটিতে বর্তমানে ১০ টি সংসদীয় আসন রয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী তার দল ১৩টি আসন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here